ট্রেন সংকটে কমেছে কনটেইনার হ্যান্ডলিং

কমলাপুর আইসিডি

কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত কনটেইনার ট্রেন না পাওয়ায় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সংকট তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও কমলাপুর আইসিডির মধ্যে পর্যাপ্ত ট্রেন চলাচল না করায় কনটেইনার জট বাড়ছে, ফলে ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরকারের রাজস্ব আদায়েও।

গত ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার (আইসিডি, কমলাপুর) স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সংকটের কথা জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। চিঠিটি ঢাকা বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় কমলাপুর আইসিডির চাহিদা অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রায় ৯০টি কনটেইনার ট্রেন সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে, জুন ও জুলাই মাসে যথাক্রমে ৩২টি, ৪৪টি ও ৩৬টি কনটেইনার ট্রেন সরবরাহ করা হয়েছে। অর্থাৎ দিনে গড়ে মাত্র ১ দশমিক ২২টি ট্রেন পাওয়া গেছে।

চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত ট্রেন না পাওয়ায় আমদানি করা পণ্য সময়মতো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানোর মতো খালি ও রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার সময়মতো রি-পজিশনিং করা যাচ্ছে না। ফলে আইসিডিতে কনটেইনারের স্টোরেজ সময় বাড়ছে। আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও শিপিং এজেন্টদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। এ অচলাবস্থার কারণে অনেক শিপিং লাইন কমলাপুর আইসিডির পরিবর্তে অন্য টার্মিনাল বা বন্দর ব্যবহারেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চিঠিতে বলা হয়, সংকটের প্রভাবে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের তুলনায় কমলাপুর আইসিডির কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রায় ১৮ শতাংশ কমেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আইসিডির স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব সংগ্রাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের গতি বজায় রাখতে কমলাপুর আইসিডিতে প্রতিদিন অন্তত তিনটি (মাসে ৯০টি) কনটেইনার ট্রেন নিয়মিত সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।