জাল ভিসায় মানবপাচার, বিমানের কর্মকর্তা আটক

জাল শেনজেন ভিসা ব্যবহার করে ইতালিতে মানবপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ বিমানের এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার মোহাম্মদ আখলাছুর রহমান (৪০) বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সে জুনিয়র অফিসার (গ্রাউন্ড সার্ভিস, আইএনএস গেট) পদে কর্মরত। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা।

তিনি জানান, ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে একটি মানবপাচারকারী চক্র কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে ২০ লাখ টাকা করে গ্রহণ করে। পরে তাদের নেপাল ও ইতালিগামী টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ইতালির শেনজেন ভিসা সরবরাহ করা হয়। গত ২৬ মে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর রোমের ফিউমিচিনো লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভিসাগুলো পরীক্ষা করে জাল বলে শনাক্ত করে। এরপর ভুক্তভোগীদের আটক রেখে দুই দিন পর ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

বাংলাদেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশন পুলিশ, সিআইডি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগীরা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দেন। তদন্তে জানা যায়, মানবপাচারকারী চক্রটি বৈধ চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জাল ভিসা সরবরাহের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। আরও জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে আখলাছুর রহমানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, আমরা অনেকে সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছি। আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। সিআইডি জানিয়েছে, মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ও অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে অভিবাসন প্রত্যাশীদের শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।