ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সংসদ যাতে কোনোভাবেই ব্যর্থ না হয়, সে বিষয়ে নিজ দল ও বিরোধী দলসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিতর্ক করব, আলোচনা করব; কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।’ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সংসদের সফলতা মানে ভবিষ্যতের সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ। এই সরকারের সফলতা মানেই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া। আমরা উভয় পক্ষ আসুন—আমরা এবং আপনারা মিলেই কিন্তু পুরো সংসদ। আপনারা-আমরা ব্যর্থ হলেই কিন্তু আমরা সবাই ব্যর্থ। আমরা ব্যর্থ বাংলাদেশ দেখতে চাই না।’ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে সংসদে গৃহীত হয়। তবে বিরোধী দল এতে না ভোট দিয়েছে।
বর্তমান বাংলাদেশ ও সংসদ একাত্তরের মতো হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে অনেকগুলো বিষয়ে দ্বিমত থাকবে। আমরা ডিবেট করব। আলাপ করব। আলোচনা করব। বসব, কথা বলব; কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। অতীতে আমরা সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে ১৭৩ দিন হরতাল ডাকতে দেখেছি। কেউ কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, এতে দেশের ক্ষতি হয়নি। সেই ক্ষতির মাশুল আমাদের বছরের পর বছর টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতার সাথে একমত পোষণ করছি। অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছি। কোনো কোনো বিলের বিষয়ে একমত হয়েছি। কোনো কোনো বিলের বিষয়ে আমাদের হয়তো দ্বিমত আছে। পরিষ্কারভাবে আমার দলের অবস্থান থেকে বলতে চাই—যে সকল বিষয়ে আমাদের দ্বিমত রয়েছে, আমরা বিরোধী দলের সদস্যদের সাথে বসব। আলোচনা করব। দেশের স্বার্থে আমরা সমাধান বের করব। আসুন, আমরা পপুলার ডিসিশনে আলাপ করব না। আলাপ করব সঠিক সিদ্ধান্তের ব্যাপারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ নেতা হিসেবে আমার দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের কাছে প্রস্তাব থাকবে আসুন, আগামী অধিবেশনে আলোচনা করব—কত দ্রুত দেশের বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে পারি। আলাপ করতে চাই, কত দ্রুত কত বেশিসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারি। আলাপ করতে চাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে কত দ্রুত শিক্ষা ও চিকিৎসা পৌঁছে দিতে পারি।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি যদি আমরা স্থিতিশীল রাখতে না পারি, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে না পারি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেখানে ৩০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এই দেশ পরিচালনা শুরু…সেই দেশকে আমরা এগিয়ে নিতে পারব না, যদি আমরা একটি স্থিতিশীল সরকার না রাখি, এই সংসদকে স্থিতিশীল করতে না পারি। আমরা কোনোভাবেই এই দেশকে সামনে নিয়ে যেতে পারব না। দেশকে সামনে নিতে হলে আমাদের উভয় পক্ষকে একসাথে কাজ করতে হবে।’
