চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) এ এলসিএল কার্গো থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব ফি চারগুণ বাড়ানো হয়েছে। একাধিক আমদানিকারকের পণ্য একসঙ্গে একটি কনটেইনারে আনা হলে তা এলসিএল (লেস দ্যান কনটেইনার লোড) কার্গো হিসেবে গণ্য হয়। এসব পণ্য বন্দরের শেডে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে আমদানিকারকেরা নিজ নিজ পণ্য খালাস করে নেন। পিসিটি পরিচালনা করছে সৌদি আরবের কোম্পানি রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)।
কোম্পানিটি বলেছে, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও অনেকে পণ্য নেয় না। এ অবস্থায় শেডের কার্যক্রমের গতি ঠিক রাখতে বাধ্য হয়ে চার্জ বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের শুল্ক বিধিমালা অনুসারে, নির্ধারিত ১০ দিনের পরও শেডে পণ্য থাকলে সেক্ষেত্রে সংরক্ষণ চার্জ প্রতিদিন প্রতি টনে ২৭২ টাকা পরিশোধ করতে হবে। আগে একই পণ্যের জন্য দৈনিক ৬৮ টাকা ভাড়া দিতে হত। ১ জুলাই থেকে নতুন চার্জ কার্যকর হবে।
আরএসজিটির বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও জনসংযোগ প্রধান সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, এলসিএল কার্গো শেডের ভেতর সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ আমদানিকারক নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও দেড় থেকে তিন মাস পর্যন্ত পণ্য শেডে রেখে দেন। ফলে শেডে পণ্যের স্তূপ জমে যাচ্ছে। এলসিএল কনটেইনার খুলে আলাদাভাবে পণ্য আমদানিকারকদের বুঝিয়ে দিতে হয়। এভাবে পণ্য জমে থাকায় নতুন আসা পণ্য রাখার জায়গা মিলছে না এবং এতে বন্দরের কার্যক্রমের গতি কমে যাচ্ছে।
অনেকে বন্দরের শেডকে ‘প্রাইভেট গোডাউনের মত’ ব্যবহার করছেন মন্তব্য করে সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, দৈনিক মাত্র ৬৮টাকা চার্জের কারণে কেউ কেউ পণ্য এখানেই রেখে দিচ্ছেন। এক মাস আগেও আমার নোটিশ দিয়েছি। বারবার তাগাদা দিয়েও কোন সুফল মিলছে না। বেশি শুল্ক আদায়ের উদ্দেশ্যে চার্জ বাড়ানো হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, এলসিএল কার্গো আমাদের টার্মিনালের মোট কার্গোর মাত্র ২ শতাংশের মত হবে। আয় বাড়ানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হলো কর্মক্ষমতা ঠিক রাখা।
পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে এলসিএল কার্গোর চার্জ বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের শিডিউল ট্যারিফ রুলস অনুসারে নির্ধারিত সময়ের পরেও শেডে পণ্য রাখা হলে পেনাল্টি চার্জ করা যায়। কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে শেডে পণ্য রেখে দিয়েছেন। এটা তাদের চাপ দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল রাখতে ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২২ বছরের চুক্তির আওতায় ২০২৪ সালের এপ্রিলে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) আরএসজিটির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং একই বছরের জুন থেকে প্রতিষ্ঠানটি টার্মিনালটির পরিচালনা শুরু করে। পিসিটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কনটেইনার একক)। ২০২৫ সালে পিসিটিতে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬৪ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। ওই বছরে ৭৮টি জাহাজ টার্মিনালে ভিড়েছিল। এর মধ্যে রপ্তানি কনটেইনার ছিল ৯৩ হাজার ৩৪০ টিইইউস এবং আমদানি কনটেইনার ৬১ হাজার ২২৪ টিইইউস।
