শেয়ারবাজারের ব্রোকারেজ হাউস এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে মার্জিন বিধিমালা লঙ্ঘন, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই শেয়ার বিক্রি এবং বেআইনি ফোর্সড সেলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত অভিযোগ করেছেন সাবেক এফবিসিসিআই পরিচালক ও বিনিয়োগকারী মো. আসলাম সেরনিয়াবাত। অভিযোগে তিনি অবৈধভাবে বিক্রি করা শেয়ার ফেরত দেওয়া এবং ভবিষ্যতে ফোর্সড সেল কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন। গতকাল রবিবার বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিনিয়োগকারী আসলাম সেরনিয়াবাতের অভিযোগ, এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ কর্তৃপক্ষ তার কোনো লিখিত বা মৌখিক অনুমতি ছাড়াই গত ১১ ও ১৪ জুন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩৭৮টি শেয়ার বিক্রি করে দেয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি গত ১৮ জুন বিএসইসির কাস্টমার কমপ্লেইন অ্যাড্রেস মডিউলে (সিসিএএম) অভিযোগ (নং–২০২৬০৬২৩৪১২) দায়ের করেন। একই বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-কেও অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ২৪ জুন সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি বলে জানান তিনি।
অভিযোগের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে আসলাম সেরনিয়াবাত জানালেন, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ তার ঋণ ও ইক্যুইটির অনুপাত ১:১-এ নামিয়ে আনতে নির্দেশ দেয়। তখন তার ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ২ লাখ ৯ হাজার ৮২০ টাকা। এর আগে ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর ৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ায় তার ডিপোজিট দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ঋণ-ইক্যুইটির অনুপাত ১:০.৯২-এ নেমে আসে।
এরপর চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত তাকে কোনো মার্জিন কল নোটিস দেওয়া হয়নি। ফলে ১১ ও ১৪ জুন পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রায় ৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯(২) ও ৯(৪) ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তার হিসাবে কৃত্রিমভাবে বড় অঙ্কের আর্থিক ঘাটতি সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এরপর ৩০ জুন তাকে চূড়ান্ত মার্জিন কল দিয়ে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে ১ কোটি ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৪১৬ টাকা জমা দিতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই, ওই দিনের সকালে তার আরও প্রায় ৬০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হয়। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আইনি প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন আসলাম সেরনিয়াবাত।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেছেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমরা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করব। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অভিযোগের বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম জানালেন, অভিযোগকারীর দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। তিনি যে অভিযোগ করছেন, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কোনো প্রতিষ্ঠান ফোর্সড সেল দিতে পারে না। বিএসইসির আইনি কাঠামোর ভেতরেই সবকিছু করা হয়েছে।
এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও মার্চে শেয়ার হস্তান্তর, নেগেটিভ ইক্যুইটি, মার্জিন ঋণ, আর্থিক প্রতিবেদন এবং করপোরেট সুশাসনের অসংগতি তদন্তে বিএসইসি পৃথক দুটি কমিটি গঠন করে। এছাড়া ২০২৪ সালে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ঘাটতি ধরা পড়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
