প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়, স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন, আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।’ রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত প্যারেড অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই সেই ঐতিহাসিক পুলিশ লাইনস। যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করেছিল তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেদিন দেশকে বাঁচাতে শহীদ হয়েছিলেন অনেকে।’ তারেক রহমান আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ইতিহাসের জঘন্যতম ফ্যাসিবাদকে ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বিদায় করে। জাতি এক ভয়ানক ফ্যাসিবাদের হাত থেকে বাঁচে। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে গণ-অভ্যুত্থানের ফলে একটি নির্বাচিত সরকার হলো আজকের সরকার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৫ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে দেশমাতৃকার টানে যখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, ঠিক তখনই রাজারবাগের পুলিশ সদস্যরা হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে অনেক পুলিশ সদস্য শহীদ হন।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভয়াবহ দুঃশাসন, মামলা, হামলা, গুম, খুন শত অত্যাচার সহ্য করে টিকে ছিল বাংলার মানুষ। ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ স্বৈরাচার পুলিশ বাহিনীকেও রক্তে রঞ্জিত করেছে। তাই আর কোনো ফ্যাসিবাদ যেন পুলিশকে রক্তে রঞ্জিত না করে, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ সদস্যরা দেখিয়ে দিয়েছেন একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন। তবে আগামী দিনে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের ভালো কাজে দেশ এগিয়ে যাবে। আপনাদের কাজই সবচেয়ে দেশকে ভালো রাখবে। নিরাপত্তা বিধানই আপনাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এখন।’ তারেক রহমান আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে আমাদের পুলিশ ভালো কাজ করছে। দেশেও ভালো কাজ করতে হবে। এটাই জনগণের প্রত্যাশা।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ভেতর র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা যাঁরা মেধা-মনন দিয়ে দেশের জন্য, সমাজের জন্য ভালো কাজ করছেন, তাঁদের অভিবাদন জানাই। সামনে তাঁরা আরও ভালো করবেন বলে আশা করছি।’
