আজ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

গ্যাস সংকটের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগে সুফল পেতে শুরু করেছে সরকার। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আজ শনিবার জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আজ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত কূপটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। উদ্বোধনের পরই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। প্রায় ১৩ হাজার ফুট গভীর কূপটি খননে সময় লেগেছে কয়েক মাস।

তিতাসের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকেও গ্যাস পাওয়ার কাজ এগিয়ে চলছে। তিতাস-৩১ এর খননকাজ শুরু হয় গত ১৯ এপ্রিল। এরই মধ্যে কূপটির গভীরতা প্রায় চার হাজার ৯২০ মিটারে পৌঁছেছে। লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ হাজার ৬০০ মিটার। ভূতাত্ত্বিক জটিলতা না হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তিতাস-৩১ এর কাজ শেষ হতে পারে। সফল হলে এখান থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিতাস-২৯ এর মূল খননকাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে লগিংসহ আনুষঙ্গিক কাজ। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কূপটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। এখান থেকে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ মিলয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিতাস-৩০ এর কাজও এগিয়ে চলছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে কূপটির কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখান থেকেও দৈনিক ১০ থেকে ১৫ মিলয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা।

তিতাস-৩১-এর কাজ শেষ হওয়ার পর বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর গভীর কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। সফলভাবে খনন ও পরীক্ষা শেষ হলে এখান থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। বিজিএফসিএলের হিসাবে, তিতাসের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিয়ন এবং বাখরাবাদ-১১ থেকে প্রায় ১০ মিলয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলতে পারে। এর সঙ্গে তিতাস-২৮ এর ১২ মিলিয়ন ঘনফুট যোগ হলে পাঁচটি কূপ থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।