সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে বিনিয়োগের অভিযোগে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানার মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বুধবার (৬ মে) বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এ তথ্য জানান। এর আগে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির ১০১২তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৩ সালে ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড তাদের পরিচালিত ‘ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ড’ থেকে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক লিমিটেডের ৬ লাখ শেয়ারে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে, যা সিকিউরিটিজ আইন পরিপন্থি। এ ঘটনায় কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ফান্ডে ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে। এই অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে কোম্পানিটিকে ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।
একইভাবে, ২০১৭ সালে একই ফান্ড থেকে এএফসি হেলথ লিমিটেডের শেয়ারে ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভ্যানগার্ডকে ৩০ দিনের মধ্যে ১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট ফান্ডে ফেরত দিতে বলা হয়েছে। এতে ব্যর্থ হলে ১৬ কোটি টাকা জরিমানা গুনতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত না দিলে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে আরোপিত জরিমানা নিজস্ব দায় হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। এরপরও জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা হারে জরিমানা আরোপ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি হিসেবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) যথাযথ তদারকিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেছে বিএসইসি। এতে ইউনিটধারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বিনিয়োগের ওপর হঠাৎ ৯৯ শতাংশ প্রভিশন রাখার বিষয়টি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা না করায় নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান মালেক সিদ্দিকী ওয়ালি অ্যান্ড কোং, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বিষয়টি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।
