আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর আগ্নেয়াস্ত্র বিশেষ করে পিস্তল, রিভলভার বা শর্টগান মালিকদের কাছ থেকে বাড়তি কর নেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। সেজন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নবায়নে কর দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিচ্ছে এনবিআর। তবে অস্ত্র বিক্রেতারা বলছেন, কর বাড়ানো হলে অবৈধ অস্ত্রের বিক্রি বেড়ে যাবে।
এনবিআর সূত্রমতে, বর্তমানে ব্যক্তিগত পিস্তল, রিভলভার বা শটগানের লাইসেন্স নবায়নে কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হয় না। তবে আগামী বাজেটে অস্ত্রভেদে লাইসেন্স নবায়নে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান পিস্তল বা রিভলভারের জন্য ২০ হাজার এবং শটগান বা রাইফেলের জন্য ১০ হাজার টাকা ফি দিতে হয়। এছাড়া সকল নবায়ন ফি’র সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১০ শতাংশ উৎসে কর দিতে হয়। অপরদিকে, ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমদানি করা রিভলভার, পিস্তল বা শটগানের ওপর সাধারণত ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রয়েছে। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক এবং অগ্রিম আয়কর মিলিয়ে আমদানি করা অস্ত্রের দামের বড় একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট প্রায় ৫৩ হাজার ৭০২টি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। এর মধ্যে—ব্যক্তি পর্যায়ে ৪৮ হাজার ২৮৩টি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ৪ হাজার ৮৫৪টি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৬৫টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। যদি ৫০ হাজার লাইসেন্সধারী গড়ে ২০ হাজার টাকা করে নবায়ন ফি এবং ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রদান করেন, তবে শুধুমাত্র নবায়ন থেকেই বছরে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব। এর বাইরে নতুন লাইসেন্স ফি এবং মালিকদের দেওয়া ব্যক্তিগত আয়কর যুক্ত করলে এই অংক আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী এই ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেমন-ব্যক্তি পর্যায়ে পিস্তল ও রিভলভারের লাইসেন্স ইস্যু ফি ৩০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার টাকা করা হয়েছে। নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর রাইফেল ও শটগানের লাইসেন্স ইস্যু ফি ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অস্ত্র ব্যবসায়ী ও মেরামতকারীদের লাইসেন্স ফি ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এনবিআর সূত্রমতে, আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকদের জন্য সরকার মোটা অংকের আয়কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রেখেছে, যা পরোক্ষভাবে বড় অংকের রাজস্ব নিশ্চিত করে। যেমন-পিস্তল বা রিভলভারের আবেদনকারীকে বিগত ৩ বছর ধরে বার্ষিক নূন্যতম ৫ লাখ টাকা আয়কর দেওয়ার প্রমাণ দেখাতে হয়। যা আগে ছিল ৩ লাখ টাকা। আর শটগানের আবেদনকারীকে বার্ষিক নূন্যতম ২ লাখ টাকা আয়কর দিতে হয়। যা আগে ছিল ১ লাখ টাকা।
অপরদিকে, বিলাসবহুল জীবনযাপনের ওপর করের চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে এনবিআর। যেমন-বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, জিপ এবং হেলিকপ্টার বা বিমানের ওপর বাড়তি আয়কর আরোপের চিন্তা রয়েছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব হলেও বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর অগ্রিম আয়কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে কিলোওয়াটভেদে এই কর সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা। অপরদিকে, সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে কিছু পণ্যে কর ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যেমন- চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা, ময়দা, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন মশলার ওপর থাকা ১ শতাংশ উৎস কর বাতিল করা, নিত্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান ১ শতাংশ টার্নওভার কর যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, প্রথমবারের মতো ব্যাটারিচালিত রিকসাকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ব্যাটারিচালিত রিকসাকে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বছরে ৫ হাজার টাকা এবং পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করা হতে পারে।
