ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবারের অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার দুইটি লকার থেকে মোট ৮৩২.৫ ভরি বা ৯ কেজি ৭১৬ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছিল। এবার সেই ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার ১৯৯০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কর্মরত শাখা ব্যবস্থাপক ও অত্র শাখার লকার ইনচার্জের নাম, পদবী, কর্মস্থল, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে চিঠিতে ওই রেকর্ডপত্র তলব করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) দুদকের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এসব তথ্য জানিয়েছে।তলবকৃত চিঠিতে আগামী ৬ মে’র মধ্যে রেকর্ডপত্র সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বরে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী পুনঃ যাচাই ও অনুসন্ধান এবং ২০০৮ সালের পরবর্তী সময়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অর্জিত সম্পদের অনুসন্ধানের স্বার্থে ওই রেকর্ডপত্র তলব হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংকের বুলিয়ন শাখার স্বর্ণ বিশেষজ্ঞ, এনবিআরের কর গোয়েন্দা ও সিআইসি’র দুই কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই লকার খোলা হয়।
২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে শেখ হাসিনা পূবালী ব্যাংকের ১টি এবং অগ্রণী ব্যাংকের ২টি লকারের ঘোষণা দেন। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লকার খোলা হয়। পূবালী ব্যাংক মতিঝিল কর্পোরেট শাখা এবং অগ্রণী ব্যাংক প্রিন্সিপাল শাখায় লকার তিনটি খোলা হয় বলে দুদক থেকে প্রেস বিবৃতিতে জানায়।
লকারগুলোতে যা পাওয়া যায়
লকার তল্লাশিতে শেখ হাসিনা–এর নামে পূবালী ব্যাংক–এর লকার নম্বর ১২৮ থেকে একটি খালি ছোট পাটের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। একইভাবে অগ্রণী ব্যাংক–এর লকার নম্বর ৭৫১/বড়/১৯৬, যা শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল–এর নামে, সেখান থেকে ৪,৯২৩.৬০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার এবং লকার নম্বর ৭৫৩/বড়/২০০, যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সিদ্দিক–এর নামে, সেখান থেকে ৪,৭৮৩.৫৬ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত সব মালামালের ইনভেন্টরি তৈরি করে শাখা ব্যবস্থাপকের জিম্মায় রাখা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন–এর ধারণা, এসব লকারে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা সিদ্দিক, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সজীব ওয়াজেদ জয় ও ববি ওয়াজেদ–এর সম্পদ থাকতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে পূবালী ব্যাংকের সেনা কল্যাণ ভবন শাখায় শেখ হাসিনার লকার নম্বর ১২৮ জব্দ করে সিআইসি।
ওই বছরের ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও তার দোসর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সেদিনের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্যও আদালত নির্দেশনা দেয়। ফেরারি দুই আসামির সমস্ত সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করার জন্য জব্দকৃত লকার খোলা হয় বলে এনবিআর জানায়।
