গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তাসহ নানা কারণে ব্যাংকঋণের চাহিদা তলানিতে নেমেছে। ফলে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা উদ্বৃত্ত অর্থ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। এর প্রভাবে গতকাল মঙ্গলবার ১৫ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার কমে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ এবং ২০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকালের নিলামে এক হাজার কোটি টাকা করে মোট দুই হাজার কোটি টাকা তোলা হয়। এর আগে একই পরিমাণ অর্থের জন্য সমমেয়াদি বন্ডের নিলাম অনুষ্ঠিত হয় গত ২৮ জুলাই। ওই দিন ১৫ বছর মেয়াদি বন্ডে ১০ দশমিক ৩৬ এবং ২০ বছর মেয়াদি বন্ডের ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ সুদে টাকা তোলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের বন্ডের সুদহার সব সময় দুই অঙ্কের ঘরে ছিল।
তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৫ বছর মেয়াদিতে ৯ দশমিক ৬০ এবং ২০ বছর মেয়াদিতে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশে নামে। পরের মাসে আবার বেড়ে ১৫ বছর মেয়াদিতে ৯ দশমিক ৯৮ এবং ২০ বছর মেয়াদি বন্ডে ১০ দশমিক ১০ শতাংশে উঠে যায়। গতকালের এ সুদহার ২০২৩ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন। ওই মাসে ১৫ বছর মেয়াদি বন্ডে ৮ দশমিক ৬৫ এবং ২০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগের চাহিদা কমে যাওয়ায় নানা সংকটের মধ্যেও গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে রেকর্ড ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত তহবিল জমা হয়েছে। এই অর্থ বিনিয়োগে ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বিল ও বন্ডের দিকে ঝুঁকছে। ফলে গত জুলাই থেকে বিভিন্ন মেয়াদি বিল ও বন্ডের সুদহার ধারাবাহিকভাবে কমে এখন এক অঙ্কে নেমে এসেছে। গত রোববার ৯১ দিন মেয়াদি বিলের সুদহার ৮ দশমিক ৮২ শতাংশ, ১৮২ দিন মেয়াদি বিলে ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলে ৯ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে।
