১৪ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত

অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও প্রায় ১৪ হাজার মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট জব্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত এক মাসেই প্রায় ১০ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি একটি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নতুন করে আরও ১৪ হাজার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্ট জব্দের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

বিএফআইইউ কর্মকর্তা বলেন, ‘এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলা সহজ হওয়ায় চক্রগুলো দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠছে। আমরা এরই মধ্যে এসব চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করেছি এবং ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যেসব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হচ্ছে, সেসব অ্যাকাউন্টধারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে যাতে ভবিষ্যতে নতুন কোনো এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলা না যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ২৫ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা ফ্রিজ করেছে বিএফআইইউ। অনলাইন জুয়া বন্ধে সরকার গত ১০ এপ্রিল সাইবার সিকিউরিটি আইন, ২০২৬ জারি করে। ওই আইনের ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার জন্য কোনো পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি বা পরিচালনা করা, অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়া, এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়া, জুয়ার বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়া-সংশ্লিষ্ট প্রচার বা বিপণন করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।