করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি ও কিছু ক্ষেত্রে করছাড় সংক্রান্ত ৬৪টি সংশোধনীসহ ‘অর্থ বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আনা বিলটি সংসদে উত্থাপন করে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পাসের প্রস্তাব দেন এবং সরকারের আর্থিক প্রস্তাব কার্যকর ও সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের জন্য বিলটি অনুমোদনের আহ্বান জানান। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটি ভোটে দিলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয় এবং তিনি বিলটি পাস হওয়ার ঘোষণা দেন। এর আগে বিলটি জনমত যাচাইয়ে পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হয় এবং কয়েকজন সংসদ সদস্য বাজেট প্রণয়নে জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার দাবি জানান।
জনমত যাচাইয়ের দাবি
পাবনা-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেছেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনগণ ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ বা ‘ইন্টারঅ্যাকশন’-এর ঘাটতি রয়েছে। তিনি জানান, শুধু বাজেট বা অর্থ বিল নয়, অন্যান্য বিলের ক্ষেত্রেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রিন পেপার ও হোয়াইট পেপারের মাধ্যমে জনমত যাচাইয়ের যে প্রচলন আছে, বাংলাদেশে তা অনুসরণ করা হয় না। বরং এখানে অনেক সময় বিল উত্থাপনের দিনই সংসদ সদস্যদের কপি দেওয়া হয়। অর্থ বিল স্থায়ী কমিটিতে পাঠিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ না থাকায়ই জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাজিবুর রহমান বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীও বাজেট বক্তৃতায় এ ধরনের বিধান প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সর্বনিম্ন করহার নিয়েও আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, এটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার দাবি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি দল বাজেটকে যুগান্তকারী বললেও অনেকের কাছে এটি গরিব-বিরোধী বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হলে জনগণ এটিকে কতটা গ্রহণ করছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগর বলেন, অর্থ বিলে পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি এবং উন্নয়ন ব্যয় কম রাখা হয়েছে। তার মতে, উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে পরিচালন ব্যয় কমানো প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার প্রশংসা করে আলী আছগর বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও কথা বলেছেন বলে তার মনে হয়েছে। বিভিন্ন কর কমানো ও মওকুফের কথা বলায় তাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, অর্থ বিল পাস হলেই বাজেট বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু হবে। তাই বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ২০১৭ সালে গ্যাস উৎপাদন ছিল ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনফুট, যা এখন নেমে এসেছে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুটে। এ অবস্থায় শিল্পকারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ জানান শাহজাহান চৌধুরী।
পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা সচল রাখতে অর্থ বিলের গুরুত্ব ‘অপরিসীম’। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কঠিন হলেও দেশের স্বার্থে সরকার সফল হোক, এমন প্রত্যাশা জানান তিনি। মাসুদ সাঈদী বলেন, বিরোধী দল হিসেবে কেবল সমালোচনা নয়, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে সুনির্দিষ্ট কিছু গঠনমূলক প্রস্তাব পেশ করতে চাই। তার প্রস্তাব, করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানো হোক। সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ভ্যাটের চাপ না দিয়ে নতুন করদাতা শনাক্ত এবং কর প্রশাসন পুরোপুরি ডিজিটাল করা হলে রাজস্ব আয় বাড়বে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে বিশেষ সুরক্ষার আওতায় আনার দাবি জানিয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, এ খাতই দেশের কর্মসংস্থানের প্রধান ভিত্তি। তিনি পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য কর ছাড় এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর ‘গ্রিন ট্যাক্স’ আরোপের প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে মাসুদ সাঈদী বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সব ধরনের জীবনরক্ষাকারী আমদানিকৃত ওষুধের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা উচিত। এ কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতি পূরণে বিলাসবহুল গাড়ি ও পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি কৃষিকে আধুনিক ও যান্ত্রিক করতে কৃষিযন্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনার কথাও বলেন।
জনমত যাচাই নাকচ
আলোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিলটির বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। তিনি বলেন, এই পর্যায়ে বিলটি পুনরায় জনমত যাচাইয়ের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যদের জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপর স্পিকার জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো ভোটে দিলে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়। পরে অর্থ বিল, ২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
৬৪ সংশোধনী গ্রহণ
বিলটি বিবেচনার জন্য গৃহীত হওয়ার পর দফাভিত্তিক সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন শুরু হয়। স্পিকার জানান, বিলের বিভিন্ন দফা ও তফসিলের ওপর সংশোধনী এনেছেন এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশারফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ, খন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া, মোহাম্মদ শামীম কায়সার, রাশেদা বেগম হীরা, আলহাজ জসিমউদ্দিন আহমদ, রেহানা আক্তার রানু, শিরিন সুলতানা এবং হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
এসব সংশোধনী প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্যগণ অর্থ বিল, ২০২৬-এর সংশোধনী তালিকা-২-এ যে সকল সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, তা আমি গ্রহণ করছি। এরপর স্পিকার একে একে সংশোধনীগুলো ভোটে দেন। সব সংশোধনী কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। সংশোধনী গ্রহণের পর স্পিকার বিলের দফা ও তফসিলগুলো সংসদের সামনে পেশ করেন। সংশোধিত আকারে বিভিন্ন দফা এবং তফসিল-২সহ বিলের অংশগুলো কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। এরপর বিলের শিরোনাম, দফা-১, প্রবর্তন এবং প্রস্তাবনা বিলের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। পরে অর্থমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে অর্থ বিল, ২০২৬ পাস হয়।
সংশোধনীতে যা যা আছে
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের প্রস্তাবে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং শুধু তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজের আয়ের ওপর করহার ৫ শতাংশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সংশোধনী তালিকায় সেই প্রস্তাব যুক্ত হয়।
কোম্পানি করহার
কোম্পানি করহারের কাঠামোয় নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেসব পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি তাদের পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার আইপিও, ডাইরেক্ট লিস্টিং, রাইট ইস্যু বা আরপিওর মাধ্যমে বাজারে ছেড়েছে, তাদের করহার নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ; তবে সব লেনদেন ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্পন্ন হলে এ হার কমে ২০ শতাংশ হবে। অন্যদিকে ১০ শতাংশের কম শেয়ার বাজারে ছেড়েছে এমন পাবলিক কোম্পানির করহার ২৫ শতাংশ, যা ব্যাংক লেনদেন নিশ্চিত হলে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে। এ ছাড়া অন্যান্য কোম্পানির করহার নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ, যা সম্পূর্ণ ব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ হবে। ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অ-পাবলিক কোম্পানির জন্য ৪০ শতাংশ রাখা হয়েছে।
তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য করহার ৪৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে; তবে কোনো মোবাইল অপারেটর পাবলিকলি ট্রেডেড হলে তাদের করহার ৪০ শতাংশ হবে। এদিকে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনে সংশোধনের মাধ্যমে নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারীরা তিন কর মেয়াদ শেষে ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দিতে পারবে। পাশাপাশি, ইচ্ছুক ব্যক্তি প্রতি কর মেয়াদে স্বেচ্ছায় রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন এবং জনস্বার্থে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সুদ ও জরিমানা ছাড়া রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর ক্ষমতা পাবে।
বিআইএন, অগ্রিম কর ও স্বর্ণ ব্যবসা
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব বা এসটিডি হিসাব খোলা ও পরিচালনা, ব্যাংক বা এনবিএফআই থেকে ঋণ নেওয়া, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা, বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ নেওয়া বা নবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নেওয়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিআইএন বা তালিকাভুক্তির প্রমাণক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আমদানিকৃত সেবাকে করযোগ্য সরবরাহ হিসেবে বিবেচনা করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। এ ভ্যাট পরিশোধের দায় থাকবে সেবা গ্রহীতার ওপর। ব্যাংক বা অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান সেবা আমদানির মূল্য পরিশোধের সময় ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেবে।
খুচরা বিক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রি বা সরবরাহের সময় উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, সরবরাহকারী, পরিবেশক বা আড়তদারকে ০ দশমিক ২ শতাংশ হারে উৎসে অগ্রিম আয়কর সংগ্রহ করতে হবে। কর সংগ্রহ না করলে অনাদায়ী করের সমপরিমাণ অর্থ সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, সরবরাহকারী, পরিবেশক বা আড়তদারকে পরিশোধ করতে হবে। স্বর্ণ, রৌপ্য, স্বর্ণালংকার, রৌপ্যালংকার, রত্ন-হীরা বা প্লাটিনাম ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসায় নিয়োজিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যের ওপর ০ দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর কর্তনের বিধান রাখা হয়েছে। স্বর্ণ বা স্বর্ণালংকারে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা, রৌপ্য বা রৌপ্যালংকারে প্রতি ভরিতে ১০০ টাকা, প্লাটিনাম বা প্লাটিনামের অলংকারে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ডায়মন্ড বা ডায়মন্ডের অলংকারে প্রতি গ্রামে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে।
দ্রুত রিটার্নে প্রণোদনা, দেরিতে অতিরিক্ত কর
স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারভুক্ত করদাতারা ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম—পরিমাণ কর প্রণোদনা পাবেন। ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিলে কোনো প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হবে না। তবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি—অতিরিক্ত কর দিতে হবে এবং ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে দাখিলে এই হার বেড়ে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি—হবে। যারা আগে কখনও রিটার্ন দেননি, তারা সংশ্লিষ্ট করবর্ষের প্রযোজ্য হারে কর পরিশোধ করে আয়বর্ষ শেষে পরবর্তী ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতারা দেশে ফেরার ৯০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।
ফ্রিল্যান্সিং, এসএমই ও তামাকপণ্যে নতুন বিধান
কর অব্যাহতির তফসিলে ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন যুক্ত করা হয়েছে। নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি মালিকানাধীন ক্ষুদ্র বা মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে বাৎসরিক টার্নওভার ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় কর অব্যাহতির বিধান রাখা হয়েছে। তবে শিল্পটি এসএমই ফাউন্ডেশনে নিবন্ধিত হতে হবে। গোষ্ঠী বীমা পলিসি থেকে কর্মচারীর প্রাপ্ত অর্থ বা সুবিধাকে কর অব্যাহতির আওতায় আনা হয়েছে। সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টে দানকৃত আয়কে কর রেয়াতযোগ্য দানের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
তামাকজাত পণ্যের নতুন শ্রেণি হিসেবে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর জন্য করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। নিকোটিন পাউচের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ গ্রামের খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা ধরে করহার ৩৫ শতাংশ এবং হিটেড টোব্যাকোর ক্ষেত্রে ৬৭ শতাংশ হারের বিধান রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রস্তুত বিলাতি মদের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার প্রুফে ৫০০ টাকা এবং অপ্রক্রিয়াজাত তামাকের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা নির্দিষ্ট ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে।
কাস্টমস ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ
কাস্টমস আইন সংশোধনের মাধ্যমে ওয়্যারহাউসে সংরক্ষিত পণ্যের মালিককে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পূর্ণ সহযোগিতা করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা ওয়্যারহাউস বা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে প্রবেশে বাধার মুখে পড়লে প্রয়োজনে তালা ভেঙে বা অন্য উপায়ে প্রবেশের ক্ষমতা পাবেন। পাশাপাশি কাস্টমস তফসিলে পারসোনাল ডেস্কটপ কম্পিউটার ও প্রসেসিং ইউনিটের জন্য পৃথক এইচএস কোড নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে এসব পণ্যে শুল্কহার শূন্য শতাংশ রাখা হয়েছে; তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
