দেশে একদিকে ব্যাটারিচালিত রিক্সা মহামারি আকার ধারণ করছে, অন্যদিকে এই রিক্সায় ব্যবহৃত ব্যাটারি কোম্পানি বিক্রয় গোপন করে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে। দুই বছরে ব্যাটারি বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠান বিক্রি দেখিয়েছে মাত্র ৫৫ কোটি টাকা। বাকি ২ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা বিক্রয় গোপন করা হয়েছে। যার বিপরীতে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩১৭ কোটি টাকা। নারায়নগঞ্জের চাইনিজ প্রতিষ্ঠান জিউঝো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের বিরুদ্ধে এই বিপুল পরিমাণ বিক্রয় গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে মূসক, নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভ্যাট গোয়েন্দা)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে এই প্রমাণ পাওয়া গেছে। রোববার (৩০ আগস্ট) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ বিশ্বরোড এলাকার চাইনিজ প্রতিষ্ঠান জিউজো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও অন্যান্য যানবাহানের বিভিন্ন ধরনের ওয়াটার ও ড্রাই ব্যাটারি তৈরি এবং সরবরাহ করে। যার মধ্যে রয়েছে-ইরিানি মিসাইল ব্যাটারি, কিং অব কিংস, ড্রাই ব্যাটারি এবং বিভিন্ন অ্যাম্পিয়ারের ওয়াটার ও ড্রাই ব্যাটারি। প্রতিষ্ঠানটি ব্যাটারি তৈরি ও সরবরাহ করলেও সঠিক বিক্রয় দেখায় না বলে গোপন সংবাদ পায় ভ্যাট গোয়েন্দা। এরই প্রেক্ষিতে ৩ আগস্ট ভ্যাট গোয়েন্দার উপপরিচালক কাজী রায়হানুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি নিবারক দল প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও ভ্যাট সংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করা হয়, যা যাচাই করে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়। পরে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ (২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত) অর্থবছর প্রতিষ্ঠানটি মোট ব্যাটারি বিক্রয় করেছে ২ হাজার ৪৯৩ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার ৩৪৩ টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বিক্রয় দেখিয়েছে ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮২ টাকা। বাকি ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার ৫৬১ টাকা বিক্রয় গোপন করা হয়েছে। যাতে ১৫ শতাংশ হারে প্রযোজ্য ভ্যাট ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৮ টাকা, যা প্রতিষ্ঠান পরিশোধ না করে ফাঁকি দিয়েছে।
আল আমিন শেখ জানিয়েছেন, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। ফাঁকি দেওয়া এই ভ্যাট আদায়ে ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রাজস্ব ফাঁকি রোধে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এ ধরনের কঠোর নজরদারি এবং নিবারক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
