পাঁচ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে ২৩ লাখ টাকা জরিমানা

সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন

বিভিন্ন সিকিউরিটিজ আইন ও নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এদের ওপর মোট ২৩ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। কমিশনের এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বিভাগ চলতি মাসে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। আদেশে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তথ্য অনুযায়ী, বিএসইসির একটি পরিদর্শন দল ইনডেক্স এগ্রোর চারটি কারখানা ও প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করে। এ সময় কোম্পানির বিভিন্ন সময়ে জমা দেওয়া নথি ও রেকর্ড যাচাই করা হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইনডেক্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মধ্যে প্রায় ২ কোটি টাকার একটি সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন হয়েছে। যেখানে ইনডেক্স এগ্রোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একই সঙ্গে ইনডেক্স কনস্ট্রাকশনের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গেও যুক্ত। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এ ধরনের লেনদেন প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হলেও, ৩০ জুন ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোম্পানি তাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, আলোচ্য হিসাব বছরে ইনডেক্স এগ্রোর স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন হয়নি। কিন্তু পরিদর্শনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া নির্মাণ ও সিভিল ওয়ার্ক-সংক্রান্ত কিছু কাজের আদেশ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম পাওয়া গেছে। যেসব কাজের আদেশ ইনডেক্স এগ্রোর অনুমোদিত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরে হওয়ার কথা ছিল, তার কিছুতে ইনডেক্স কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির এমডি মাহিন বিন মাজহারকে ৫ লাখ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ইকবাল আহমেদকে ১ লাখ ও সেক্রেটারি আবু জাফর আলীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে কমিশন। অন্যদিকে আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারির একটি চিঠির পর ব্রোকারেজ হাউজ প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেডের অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। চিঠিতে রবি আজিয়াটার এক লাখ শেয়ারের ক্ষেত্রে ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারী হিসাব এবং ব্রোকারেজ হাউজের ব্যাক-অফিস সিস্টেমের মধ্যে গরমিলের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালের মাধ্যমে আভা দত্ত নামে এক বিনিয়োগকারীর জন্য ওই শেয়ার কেনা হয়। পরে শেয়ারগুলো আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানির ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারীর অধীনে একটি বিও হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) রেকর্ড পর্যালোচনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মনিটরিং টিম দেখতে পায়, প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালের অধীনে আভা দত্তর নামে বিও হিসাব খোলা হয় ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ, যা শেয়ার কেনার প্রায় দুই মাস পরে। এটিও সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেজাউল ইসলামকে ৫ লাখ এবং সাবেক কমপ্লায়েন্স অফিসার এওয়াই জোবায়েরকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় নাভানা সিএনজি লিমিটেডসহ কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান, তিন পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুই স্বতন্ত্র পরিচালক, কোম্পানি সেক্রেটারি ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তাকে সতর্ক করেছে বিএসইসি। তবে তাদের ওপর কোনো আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়নি।