রপ্তানিমুখী পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের কাঁচামাল আমদানির শর্ত সহজ করার পাশাপাশি ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯’ এ একাধিক সংশোধনী এনেছে সরকার। এগুলোর মধ্যে আমদানি নীতি আদেশে নিট কাপড় আমদানিতে যে নিষেধাজ্ঞার ধারা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। বুধবার এসব সংশোধনী এনে নতুন করে হালনাগাদ আদেশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আমদানি নীতি আদেশের ২৫ অনুচ্ছেদের ১২ উপ অনুচ্ছেদে এমন বিধান ছিল, যেখানে বলা ছিল, ‘নিট ফেব্রিক আমদানি যোগ্য হবে না’।
এতে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিবেচনায় এ বিধান স্থগিত বা প্রত্যাহারের অনুরোধের দাবি জানায় বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। এ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে এ ধরনের আমদানির সুযোগ সীমিত হলে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে বিজিএমইএ। নতুন আদেশে নিষেধাজ্ঞার এ বাক্যটি বাতিল করা হয়।
পোশাক খাতের আমদানিতে আরও কিছু বিধানে শিথিলতা আনা হয়েছে। এরমধ্যে মূল আদেশে গ্রে-কাপড় ছাড়া অন্য কাপড় কেবল ১৮.২৯ মিটার বা তার বেশি থানে আমদানির সুযোগ ছিল। কাটা বা টুকরো কাপড় আনা যেত না। এখন কৃত্রিম তন্তুর সীমলেস স্পোর্টসওয়্যার, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন আইটেম ও ফাংশনাল পোশাকের কাপড় আকৃতি ও সাইজ নির্বিশেষে আনা যাবে। তবে এর জন্য বিজিএমইএ বা বিকেএমইএর সুপারিশ লাগবে বলে তুলে ধরা হয়েছে আদেশে।
এছাড়াও বিনামূল্যে (এফওসি) আমদানির ছকে কটন, ম্যান-মেড ফাইবার ও সিনথেটিক ফেব্রিক্সের সঙ্গে ‘ও অন্যান্য উপকরণ’ যোগ করা হয়েছে। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল ও হোসিয়ারি পণ্যের কাঁচামালের পরিমাণ এখন ইউডি বা ইউপি অনুযায়ী ঠিক হবে। হোসিয়ারি ও নিটেড পোশাকের সুতা ও নিটেড কাপড় আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির শর্তও আর নেই আর নেই নতুন বিধানে। ২৫ অগাস্ট ঋণপত্র বা এলসি খোলার কড়াকড়ি শিথিল, আমদানি সহজীকরণ ও মুক্ত বাণিজ্য নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে আমদানি নীতি আদেশ জারি করে সরকার।
আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯-এ বাণিজ্য সহজীকরণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন এ আদেশের মাধ্যমে ২০২১-২৪ সালের আমদানি নীতি বাতিল হয়েছে। নতুন নীতিতে বাণিজ্য প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণ ও ব্যাংকিং জটিলতা কমাতে বেশ কিছু নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আগের আমদানি নীতি আদেশে ঋণপত্র (এলসি) ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ থাকলেও বিভিন্ন পণ্য ও খাতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা ও শর্ত ছিল। নতুন আদেশে এ সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
