নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৮১.৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল মজুদ পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এসব পণ্যের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় এম আর ট্রেডার্সের গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ৪৫ মেট্রিক টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটের হদিস দিতে পারেনি সিম ফেব্রিক্স লিমিটেড। এ ঘটনায় শুল্ক-কর ফাঁকি এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের আশঙ্কায় তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি।

রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে এ অভিযান পরিচালনা করে। বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কেমিক্যাল অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে এম আর ট্রেডার্সের গুদামে সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটসহ প্রায় ৮১.৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল মজুদ পাওয়া যায়। তবে এসব পণ্য ক্রয়, আমদানি কিংবা বৈধভাবে মজুদের পক্ষে কোনো দলিল দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণে মজুদ করা পণ্যসহ গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই অভিযোগ যাচাই করতে সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডেও অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২৯৩৪৮২, ১৭ অক্টোবর ২০২৬-এর মাধ্যমে ভারত থেকে বন্ড সুবিধায় ৪৫ মেট্রিক টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট আমদানি করেছিল। তবে অভিযানকালে আমদানি করা এসব কেমিক্যালের সরেজমিনে কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কেমিক্যাল উৎপাদনকাজে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন কাস্টমস গোয়েন্দারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একদিকে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কেমিক্যালের হদিস নেই, অন্যদিকে নন-বন্ডেড গুদামে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যালের মজুদ পাওয়া গেলেও সেগুলোর বৈধ কাগজপত্র নেই। এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
আটক কেমিক্যালের প্রকৃত উৎস, আমদানি ও ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য, বন্ড সুবিধার সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং সরকারের রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্কমুক্ত কাঁচামালের অবৈধ বাজারজাতকরণ ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
