দ্বিতীয় বিয়ে করতে কর পরিদর্শক কবিরের জালিয়াতি

প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই সন্তান রয়েছে। প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে জালিয়াতি করলেন দ্বিতীয় বিয়ে। দ্বিতীয় বিয়ে করার সময় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়া হয়নি। দ্বিতীয় স্ত্রীকেও প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে। জানাজানি হওয়ার পর বেকায়দায় পড়েন। দ্বিতীয় স্ত্রী বিষয়টি জানার পর মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। বিয়ে নিয়ে এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন কর পরিদর্শক কবির হোসেন। বর্তমানে তিনি কর অঞ্চল-২৫ এর কর সার্কেল-৫৪৩ কর্মরত। কবির হোসেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা চরচন্দ্রাইল ইউনিয়নের চরচন্দ্রাইল গ্রামের নজির আহমেদ ও সালেহা বেগমের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান।

সূত্রমতে, ১১ অক্টোবর বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম আহমেদের সই করা আদেশে কবির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আদেশে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কবির হোসেনকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরোয়ানা জারির খবর পেয়ে কবির হোসেন কর অঞ্চলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত না করেই আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

একাধিক কর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কবির হোসেন অনিয়মের মাধ্যমে টাকা কামিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে করদাতাদের হয়রানি, জিম্মি করে টাকা আদায়সহ নানান অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। অনিয়মের বিষয় জানাজানি হলে প্রায় সময় তিনি আত্মগোপনে চলে যেতেন। সে জন্য বিভিন্ন সময় তাকে শোকজও করা হয়েছে। প্রতিবার-ই বিভিন্ন উপায়ে পার পেয়ে যেতেন।

আদালত সূত্রমতে, কবির হোসেন আগে বিবাহিত ছিলেন। ওই ঘরে দুইটি সন্তান রয়েছে। এই তথ্য গোপন করে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল ৫০ লাখ টাকা দেনমোহরে পিরোজপুরের মো. বেলায়েত হোসেন শেখের কন্যা হাফসা আক্তার বাবলিকে বিয়ে করেন। বিবাহের কয়েক মাস পর কবির হোসেন হঠাৎ পাল্টে যান। দ্বিতীয় স্ত্রীকে না জানিয়ে প্রথম স্ত্রীর কাছে চলে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে দ্বিতীয় স্ত্রী মামলা করার উদ্যোগ নেয়। তবে কবির হোসেন আত্মগোপনে চলে যান। সেখান থেকে চলতি বছরের ১২ আগস্ট হাফসাকে ফোন করে ডিভোর্সের বিষয়টি জানায়। তবে কোন মামলা বা আইনি প্রক্রিয়ায় না যেতে বলেন। গেলে ক্ষতি করা হবে বলে হাফসাকে মোবাইলে হুমকি দেন। একইসঙ্গে হাফসার দেনমোহরের টাকা না দিয়ে বাঁচতে হাফসার বিরুদ্ধে একাধিক হয়রানিমূলক মামলাও করেন। আদালত ইতিমধ্যে একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলা করেই থেমে থাকেননি কবির হোসেন; বরং শারীরিক নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। দেনমোহরের অর্থ পরিশোধ এড়াতে তিনি নানা বেআইনি পথ বেছে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সূত্রমতে, দ্বিতীয় স্ত্রী হাফসা আক্তার বাবলি মুসলিম পারিবারিক ও শরিয়াহ আইন অনুযায়ী তাঁর প্রাপ্য দেনমোহরের জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটন চিফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সম্প্রতি কবির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। রাজধানীর পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে মামলার ওয়ারেন্টের কাগজ ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছেন বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে কর পরিদর্শক কবির হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমঝোতার চেষ্টা করেন।