ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কথা চালিয়ে যেতে বলেছে সরকার

এনসিটি ইজারা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা দায়িত্ব দিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-১ অধিশাখা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। একই দিনে মন্ত্রণালয়ের আরেকটি চিঠিতে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর (আইটিও) নিয়োগের লক্ষ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তাতে দুবাইভিত্তিক এ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া অথবা ‘এগিয়ে নিতে ইচ্ছুক না হলে এ প্রক্রিয়া বাতিল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের’ নির্দেশনা ছিল। প্রথম এই চিঠি পাওয়ার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়। তখন দ্বিতীয় চিঠিটিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া দ্বিতীয় চিঠিতে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে পর্যালোচনা করতে নৌপরিবহনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ৪ জুন সভা হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর (আইটিও) নিয়োগে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনা চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছিল। তখন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনার পর এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া বলেন, আলোচনা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটা নতুন কিছু নয়। আলোচনা আগেও চলছিল। একইদিনে দুটি চিঠি দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া বলেন, মূলত পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) অথরিটি চিঠি দিয়েছিল বন্দরের এনসিটি এবং ওভারফ্লো কন্টেইনার ইয়ার্ডে (ওসিওয়াই) টার্মিনাল অপারেটর নিয়োগের কার্যক্রম অগ্রসর বিষয়ে মতামত দিয়ে। পিপিপি অথরিটির সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বন্দরকে প্রথম চিঠিটি দেওয়া হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বুঝতে পারেনি। তারা মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্দেশনা চেয়েছিল। তাই দ্বিতীয় চিঠিটিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমি যতটুকু জানি, আলোচনা আগে থেকেই চলছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবং ওসিওয়াই এ অপারেটর নিয়োগের কার্যক্রম মূলত পিপিপি অথরিটির অধীনে হবে জানিয়ে জাকারিয়া বলেন, আমরা শুধু ইনিশিয়েট করছি। বড় ভূমিকা পালন করছে পিপিপি অথরিটি। এনসিটি পরিচালনায় অপারেটর নিয়োগের আলোচনা এগিয়ে নিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করেছে কিনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, একটি মূল্যায়ন কমিটি আগে থেকেই ছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের চালু থাকা চারটি কন্টেইনার টার্মিনালের মধ্যে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল সবচেয়ে বড়। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া কন্টেইনারের ৪৪ শতাংশ হয় এনসিটিতে।

২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এনসিটিতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ মে মাসে এখানে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা এক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ও গর্ভমেন্ট টু গর্ভমেন্ট (জিটুজি) কাঠামোর আওতায় এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

সেসময় ওই উদ্যোগ পরিণতি না পেলেও অর্ন্তবর্তী সরকারের মেয়াদে আবার এই প্রক্রিয়া গতিশীল হয়। অর্ন্তবর্তী সরকারের শেষ সময়ে এ বিষয়ে চুক্তি হয়ে যাওয়ার জোর আলোচনা শুরু হলে আন্দোলনে যায় বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা। সবশেষ চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটিতে বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেয় অর্ন্তবর্তী সরকার। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি বছরের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ-দুবাই যৌথ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্ল্যাটফর্মের সভায় আবার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সংবাদ অনুসারে, ওই সভায় এনসিটির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) যুক্ত করে সমন্বিত টার্মিনাল হিসেবে পরিচালনার প্রস্তাব দেয় ডিপি ওয়ার্ল্ড। এরপর এপ্রিলের শেষদিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের ওই প্রস্তাবের পিপিপি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে মতামত জানতে চায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে বন্দর কর্র্তপক্ষকে একই দিনে দুটি চিঠি দিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।