কালো টাকা বিনিয়োগের পস্তাবে এনবিআরের ‘না’

দেশের আবাসন খাতে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই কম কর দিয়ে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। তবে এ প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এ সময় রিহ্যাবের সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান ও সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন।

সংগঠনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো কর্তৃপক্ষ যাতে প্রশ্ন তুলতে না পারে—আয়কর অধ্যাদেশে এ সংশ্লিষ্ট আগের বিধানটি পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে। রিহ্যাবের সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, প্রবাসীরা অনেক সময় টাকা পাঠানোর পর ঘোষণা দেন না, তখন সেই অর্থ অঘোষিত বা কালো টাকা হিসেবে গণ্য হয়। এ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনতে না দিলে তা বিদেশে চলে যায়।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, আমরা ৫৫ বছর ধরে এই সংস্কৃতিতে ছিলাম, আর থাকতে চাই না। তিনি বলেন, এখন বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো খুব সহজ, এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে পাঠালে সরকার প্রণোদনাও দিচ্ছে। তাই প্রবাসীরা নিয়মিত হারে কর দিয়ে অর্থ বৈধ করবেন—এর বাইরে কিছু করা যাবে না।

প্রসঙ্গত, ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার একটি বিধান চালু করে, যেখানে আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগ করলে কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুলতে পারত না। পাশাপাশি যেখানে সাধারণ ক্রেতাদের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হতো, সেখানে কালো টাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর ছিল মাত্র ১০ শতাংশ।

এ বিধানকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে সরকার ধীরে ধীরে এ নীতি থেকে সরে আসে। বর্তমানে আবাসন খাতে বিনিয়োগে ১০ শতাংশ কর সুবিধা নেই; বরং নিয়মিত করহার প্রযোজ্য হওয়ার পাশাপাশি জরিমানাও দিতে হয়। একই সঙ্গে বিনিয়োগের উৎস নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রশ্ন তুলতে পারে। এ ছাড়া রিহ্যাব ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়-বিক্রয়ে নিবন্ধন ব্যয় কমানো এবং সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে তুলতে বিশেষ সুবিধা দেওয়াসহ আরও কিছু প্রস্তাব দিয়েছে।