শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই দরবৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। ডিএসইর তদন্তে শেয়ারটির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির বিষয়টি উঠে আসার পর এর কারণ জানতে কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। জবাবে ওরিয়ন ইনফিউশন জানিয়েছে, কোনো ধরনের অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারটির দর বাড়ছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারদর ছিল ১৬০ টাকা ৭০ পয়সা। পাঁচ কার্যদিবস পর ২১ সেপ্টেম্বর লেনদেন শেষে দর দাঁড়িয়েছে ২৫২ টাকা ৬০ পয়সায়। অর্থাৎ এই সময়ে প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে ৯১ টাকা ৯০ পয়সা বা প্রায় ৫৭ শতাংশ। এদিকে কোম্পানিটির আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় বর্তমান শেয়ারদর নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ১ টাকা ৪২ পয়সা। এর বিপরীতে ২৫২ টাকা ৬০ পয়সা দর বিবেচনায় কোম্পানিটির মূল্য-আয় অনুপাত (পিই) দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৩ দশমিক ৪২।
অর্থাৎ কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ারদর ও মুনাফার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। উচ্চ পিইকে ঝুঁকির বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে শেয়ারটিতে মার্জিন ঋণ সুবিধাও বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিটির সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফলেও বড় ধরনের মুনাফা সক্ষমতার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সর্বোচ্চ শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছিল ২ টাকা ৮ পয়সা। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরেই কোম্পানিটির ইপিএস সীমিত পরিসরে রয়েছে।
লভ্যাংশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। ২০২৪-২৫ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে কোম্পানিটি সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারদরের বড় উত্থানের সঙ্গে কোম্পানিটির মুনাফা ও লভ্যাংশের প্রবৃদ্ধির সামঞ্জস্য কতটা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে ওরিয়ন ইনফিউশনের পরিশোধিত মূলধন মাত্র ২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বাজারে তুলনামূলক কম পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির শেয়ার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার নিয়েও একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কারসাজি করছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে।
