আমদানির উদ্যোগে কাঁচামরিচের দাম কমার আশা

রাজধানীর বাজারে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা মাত্র এক সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কয়েক দিন আগে দাম ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, যেখানে গত সপ্তাহেই তা ছিল প্রায় ২০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে, ফলে দাম বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, সোমবার থেকেই আমদানি শুরু হলে দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বাজারে দাম স্বাভাবিক হতে পারে।

গতকাল রোববার রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। কারওয়ান বাজার, রায়েরবাজার ও মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভালো মানের মরিচের দাম আরও বেশি চাওয়া হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ কম থাকায় আড়ত থেকে বেশি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তার ওপর।

টাউন হল মার্কেটের সবজি ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান বলেন, বর্ষার কারণে অনেক এলাকায় মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও গাছ পচে যাচ্ছে, কোথাও ক্ষেত পানিতে ডুবে রয়েছে। ফলে আড়তে পর্যাপ্ত মরিচ আসছে না। গতকাল রোববারও আড়ত থেকে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০০ টাকায় কিনেছি। তিনি বলেন, আরেকটি কারণ হলো, বর্তমানে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে না। আমদানি চালু থাকলে সরবরাহ বাড়ত, দামও এতটা বাড়ত না।

রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীরা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মূল্য এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পরে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, কাঁচামরিচ আমদানির ওপর বিদ্যমান কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আমদানি শুরু হলে দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থে বাজারকে সহনীয় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। কেউ যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বা মূল্য কারসাজির মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। গণমাধ্যমকে সরেজমিন তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠভাবে বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরতে হবে। এতে ভোক্তারা প্রকৃত তথ্য জানতে পারবেন এবং গুজব বা বিভ্রান্তি কমবে।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য ও কৃষিপণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং করণীয় নির্ধারণে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাণিজ্যমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী অংশ নেন। বৈঠক শেষে তারা শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনে যান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কয়েকটি উৎপাদন এলাকায় কাঁচামরিচের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত আমদানির অনুমতি দেওয়া এবং শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।