আইটি ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও স্টার্টআপে করছাড়

দেশের উদীয়মান আইটি ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার বিকাশে সহায়তা দিতে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কর ও শুল্কে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে টার্নওভার করসহ সামগ্রিক কর কাঠামোয় একাধিক স্বস্তিমূলক পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে টার্নওভার করছাড়

নতুন ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপগুলোর শুরুর দিকের পুঁজি সংকট দূর করতে টার্নওভার করের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ন্যূনতম টার্নওভার করের হার বিদ্যমান স্তর থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক এক শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এর ফলে একদম প্রাথমিক পর্যায়ের একটি প্রযুক্তি বা আইটি স্টার্টআপকে শুরুতেই বড় অংকের করের চাপে পড়তে হবে না, যা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও টেকসই করতে সাহায্য করবে।

আইটি ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে কর অব্যাহতি

ডিজিটাল ইকোনমির অন্যতম চালিকাশক্তি আইটি ফ্রিল্যান্সিং এবং বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশনের (যেমন- ইউটিউব, ফেসবুক বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট ক্রিয়েটর) মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর কর অব্যাহতির সুবিধা বজায় রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য করদাতাদের অবশ্যই এনবিআরের নিয়মানুযায়ী সময়মতো রিটার্ন দাখিল করতে হবে এবং আয়ের বিবরণী প্রদর্শন করতে হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণে শুল্ক ছাড়

প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা যেমন- সফটওয়্যার উন্নয়ন, ক্লাউড সার্ভিস, ডেটা সেন্টার, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং এআইভিত্তিক (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) স্টার্টআপগুলোর পরিচালন ব্যয় কমাতে কিছু আইটি হার্ডওয়্যার এবং নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও ভ্যাট রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় আইটি খাতের প্রতিরক্ষণে বিদেশি কিছু সফটওয়্যার সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক যৌক্তিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অনুদান ও বিশেষ তহবিল

বাজেট বক্তৃতার তথ্যানুযায়ী, শুধু কর ছাড়ই নয়, আইটি খাতের স্টার্টআপ ও নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সরাসরি সহায়তার জন্য সরকারের বিশেষ তহবিল (যেমন: স্টার্টআপ বাংলাদেশ বা সমমানের উদ্ভাবনী তহবিল) থেকে আর্থিক অনুদান ও ইকুইটি সহায়তার বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সারদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে স্মার্ট আইডি কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি আরও সহজ করার রূপরেখাও রয়েছে বাজেটে।