শেয়ারে আলাদিনের চেরাগ, ২ মাসে দাম বেড়ে ১১ গুণ

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং

দেশের শেয়ারবাজারে রূপকথার ‘আলাদিনের চেরাগ’-এর মতো আচরণ করছে লোকসানে থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড। মাত্র দুই মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদাম প্রায় সাড়ে ১১ গুণ বেড়েছে, যা শতাংশ হিসেবে প্রায় ১,০৪৭ শতাংশ উল্লম্ফন।

শেয়ারের দামে এমন অস্বাভাবিক উত্থান হলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এখনো বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে কোনো নোটিশ দেয়নি। তবে এই উত্থানের আগে কোম্পানিটির শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছিল, যার মূল কারণ দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা। লোকসানের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনেও কোম্পানিটির লোকসানের চিত্রই উঠে এসেছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল মাত্র ৩৭ পয়সা। সেখান থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ১৬ মার্চ লেনদেন শেষে প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৯০ পয়সা। অর্থাৎ দুই মাসে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩ টাকা ৫৩ পয়সা বা ১ হাজার ৪৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোনো বিনিয়োগকারী গত ১৪ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ১০ লাখ টাকার শেয়ার কেনেন, তাহলে এখন তার বাজার মূল্য ১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ হিসেবে ১০ লাখ টাকা খাটিয়ে দুই মাসেই মুনাফা পাওয়া গেছে ৯৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ যেন রূপকথার ‘আলাদিনের চেরাগ’ পাওয়ার মতো ঘটনা!

শেয়ারের সাম্প্রতিক উত্থানের আগে কোম্পানিটির দামে বড় ধরনের পতন হয়েছিল। ২০২৪ সালের ২১ মার্চ প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৫ টাকা ৯০ পয়সা, যা কমতে কমতে নেমে আসে মাত্র ৩৭ পয়সায়। এমন অস্থির ওঠানামার মধ্যেই সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৬ টাকা ৭১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৮৬ পয়সা। অর্থাৎ চলতি বছরে কোম্পানিটির লোকসান আরও বেড়েছে।

এদিকে, ২০১৮ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। তার আগে ২০১৭ সালে ১২ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। কিন্তু লোকসানে নিমজ্জিত হওয়ায় ২০১৮ সালের পর প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের আর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ২০০৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আর শেয়ার সংখ্যা ২২ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ২৪৬টি। এর মধ্যে ৪১ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার আছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪১ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ শেয়ার আছে।