সরকার উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকারী ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) উৎপাদকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। নতুন এ প্যাকেজের আওতায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। রুফটপ সোলার ব্যবস্থায় ব্যাটারি স্থাপনের আনুমানিক খরচ বিবেচনায় নিয়ে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান বাজারদর ও বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিবেচনায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ব্যয় ৮ টাকা ধরে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার আওতায় এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।
কোনো গ্রাহক বা উৎপাদক নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয়কৃত অর্থ তার লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো উৎপাদক জাতীয় গ্রিডে প্রতি ইউনিট ৯ টাকায় সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হলে নির্ধারিত ১০ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে অবশিষ্ট দেড় টাকা তাকে প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুযায়ী আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসব গ্রাহক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর অর্থাৎ ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন।
বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রণোদনাসহ বিদ্যুতের মূল্য-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করবে। প্রণোদনার অর্থ গ্রাহকদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হবে। কোনোভাবেই তা নগদে দেওয়া যাবে না। আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর স্থাপিত সিস্টেমের ক্ষেত্রে এ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। সৌরভিত্তিক সিস্টেম স্থাপনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার’-এর মাধ্যমে এই কর্মসূচির সার্বিক নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন। জারিকৃত প্রজ্ঞাপনটি ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
