বাজারে এল বিওয়াইডির নতুন মডেলের গাড়ি

চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি দেশে আসার দুই বছর পূর্ণ হলো। বর্তমানে এই ব্র্যান্ডের তিনটি মডেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এবার বাজারে এসেছে প্লাগইন হাইব্রিড নতুন মডেল সিলায়ন-৫। গাড়িটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা, তবে প্রথম ৫০০ গ্রাহকের জন্য দাম রাখা হয়েছে ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের বাজারে গাড়িটির আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে বিওয়াইডির একমাত্র পরিবেশক হলো সিজি-রানার বাংলাদেশ লিমিটেড।

সিলায়ন-৫ একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ৭১ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে বলে দাবি করেছে সিজি-রানার বাংলাদেশ লিমিটেড। আর বৈদ্যুতিক চার্জ ও ফুল ট্যাংক জ্বালানিতে গাড়িটি ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ যেতে সক্ষম। শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক চার্জ ব্যবহার করলে প্রতি কিলোমিটারে খরচ পড়বে আনুমানিক ২.৫ থেকে ৩ টাকা। বিআইওয়াইডি জানায়, গ্রাহকদের জন্য এই মডেলের ব্যাটারির ওয়ারেন্টি ৮ বছর বা ১ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার। মোটরের জন্য রয়েছে ৮ বছর বা ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার, আর গাড়ির জন্য রয়েছে ছয় বছর বা ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার ওয়ারেন্টি।

বিওয়াইডি বাংলাদেশের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ইমতিয়াজ নওশের বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে এই গাড়ির প্রি বুকিং চলছে। প্রি বুকিংয়ের জন্য আমরা গ্রাহকদের ৪৮ লাখ টাকার কম অর্থ নিচ্ছি। অর্থাৎ গাড়িটির দাম এর আশপাশেই হবে। দেশে বর্তমানে ৫০০–এর বেশি বিওয়াইডির গাড়ি চলছে। গাড়িটি অন্যান্য ব্র্যান্ডের হাইব্রিড ধরনের এসইউভির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভালো বিক্রি হবে।’ আধুনিক প্রযুক্তির এই গাড়ির প্রথম দেখায় নজর কাড়বে এর চমৎকার নকশার কারণে। ওসেন অ্যাসথেটিকস ধারণা থেকে তৈরি গাড়িটির নামকরণ করা হয় সামুদ্রিক প্রাণী সিলায়নের নামে। এই এসইউভিটির সামনের দিকে রয়েছে বড় ফ্রন্ট গ্রিল, এলইডি হেডলাইট ও স্কাল্পটেড বডি শেপ। এ ছাড়া গাড়িটির ১ হাজার ৯৪০ কেজি ওজনের গাড়িটির মাটি থেকে উচ্চতা বা গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ৭ সেন্টিমিটার।

বিওয়াইডি সিলায়ন-৫ মডেলের এই গাড়িতে রয়েছে ডিএমআই প্লাগ-ইন হাইব্রিড ধরনের অকটেন ইঞ্জিন ও শক্তিশালী ইলেকট্রিক মোটর। এই গাড়ি শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে সময় নেয় মাত্র ৭ দশমিক ৭ সেকেন্ড। বিওয়াইডির গ্রাহকসেবা বিশেষজ্ঞ রেজওয়ান রহমান বলেন, দামের দিক থেকে এই গাড়ি দেশের অন্যান্য পিএইচইভি গাড়ির তুলনায় তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। গাড়িটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো দৈনন্দিন ব্যবহারে এটি বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো কম খরচে চালানো যায়। একই সঙ্গে দীর্ঘ দূরত্বে যাতায়াতের সুবিধার জন্য এতে রয়েছে ১৫০০ সিসির একটি ইঞ্জিন, যা চার্জিং সংক্রান্ত দুশ্চিন্তা দূর করবে।

বিআইওয়াইডি সিলায়ন-৫-এর বুট স্পেস তুলনামূলকভাবে বড়। পেছনের সিট ভাঁজ করলে মালামাল বহনের জায়গা আরও বেড়ে যায়। এছাড়া গাড়িতে প্যানারোমিক সানরুফ রয়েছে।গাড়িতে আছে অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম, যার মধ্যে রয়েছে লেন কিপ অ্যাসিস্ট, অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল এবং অটোনোমাস ইমার্জেন্সি ব্রেকিং-এর মতো আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য। ইন্টেরিয়রেও গাড়িটি বেশ আকর্ষণীয়। এতে আছে কৃত্রিম চামড়ার সিট, ১২.৮ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে, ছয় স্পিকারের সাউন্ড সিস্টেম এবং মাল্টি জোন ক্লাইমেট কন্ট্রোল সুবিধা।

গাড়িতে আছে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা। অর্থাৎ ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে গাড়ির জানালা, এসি, সানরুফ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ ছাড়া এনএফসি (নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) কার্ড দিয়ে গাড়িটি চাবি ছাড়াও বন্ধ ও চালু করা যায়। এ ছাড়া গাড়িটিতে রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রির এইচডি ক্যামেরা ও ৭টি এয়ারব্যাগ দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা প্রযুক্তি। এই গাড়ি কসমস ব্ল্যাক, অরোরা হোয়াইট, হারবার গ্রে ও আটলান্টিস গ্রে—এই চার রঙে পাওয়া যাবে।