বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা স্থলবন্দর নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে ভারতীয় অংশে কোনো অবকাঠামো বা সড়ক না থাকার কারণে এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার স্থলবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত রাখে। বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৪০তম বৈঠকে বাল্লা স্থলবন্দর চালু না রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। একই বৈঠকে নীলফামারীর চিলাহাটি, চুয়াডাঙ্গার দৌলতগঞ্জ ও রাঙ্গামাটির তেগামুখ স্থলবন্দরও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানায়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের কেদারাকোট নামক স্থানে বাল্লা স্থলবন্দর নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ ১৩ একর এলাকা জুড়ে স্থলবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের জুন মাসে শেষ হয়।
বাল্লা স্থলবন্দর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ খোয়াই নদীর অপর তীরে, ত্রিপুরার পাহাড়মূড়ে সময়মতো বন্দর স্থাপন না করার কারণে স্থলবন্দরটি স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এর আগে ১৯৫১ সালে চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী বাল্লা এলাকায় ৪.৩৭ একর জায়গায় একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ১৯৯১ সালে এটি পুনরায় চালু হয়। এই পোস্টের মাধ্যমে সীমিত পরিমাণ পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করা হতো। ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ সরকার বাল্লাকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে।
এর আগে, গত ২ মার্চ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনটি অলাভজনক ও কার্যক্রমহীন স্থলবন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ এবং একটি স্থলবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধের সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আটটি স্থলবন্দর কার্যকর বা অকার্যকরের বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত যাচাই কমিটি এ সুপারিশ করে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিগত সরকারের সময়ে নির্মিত অলাভজনক ও কার্যক্রমহীন স্থলবন্দরগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গত ৬ নভেম্বর ছয় সদস্যের ওই কমিটি গঠন করে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের শেরপুরের নাকুগাঁও, ময়মনসিংহের গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী, জামালপুরের ধানুয়া কামালপুর, হবিগঞ্জের বাল্লা, বিরল, নীলফামারীর চিলাহাটি, চুয়াডাঙ্গার দৌলতগঞ্জ এবং রাঙ্গামাটির তেগামুখ স্থলবন্দর কার্যকর বা অকার্যকর করার বিষয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এই আটটি স্থলবন্দর সরেজমিনে পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে প্রাপ্ত তথ্য, সুবিধা-অসুবিধা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ করে কমিটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে।
** ভারতের সঙ্গে ৩ স্থলবন্দর বন্ধ, ১টি স্থগিতের সিদ্ধান্ত
** চার স্থলবন্দর বন্ধের সুপারিশ