সাবেক মন্ত্রীর ছেলের ২১৩ কোটি টাকার সম্পদ শনাক্ত!

সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের ছেলে সাদাত মান্নানের প্রায় ২১৩ কোটি টাকার সম্পদ শনাক্ত করেছে এনবিআরের সিআইসি। দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বনানীর সাতটি অ্যাপার্টমেন্টসহ কৃষি ও অকৃষি সম্পত্তি মিলিয়ে বাংলাদেশে সাদাত মান্নানের সম্পদের মূল্য আট কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া রয়েছে ১৩২ কোটি টাকার বৈদেশিক সম্পদ। দায় বাদ দেওয়ার পর তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১৪০ কোটি টাকা।

সিআইসি এখন সাদাত মান্নানের পাশাপাশি তাঁর বাবা এম এ মান্নান, মা জোলেখা মান্নান ও বোন সারা মান্নানের কর ফাঁকি ও সম্পদের তথ্য তদন্ত করছে। এর অংশ হিসেবে তাঁদের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিআইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সোমবার এম এ মান্নান ও তাঁর পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সাদাত মান্নানের ১৩২ কোটি টাকার বৈদেশিক সম্পদের তথ্য মিলেছে, যার উৎস তিনি প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা দিতে না পারলে সম্পদ আয় হিসেবে গণ্য হয়ে কর প্রযোজ্য হবে।

মন্ত্রী হওয়ার পর এম এ মান্নানের পারিবারিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। তাঁর স্ত্রী জোলেখা মান্নান ঢাকার একটি মহিলা কলেজের শিক্ষিকা, মেয়ে সারা ডাক্তার এবং স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ছেলে সাদাত লন্ডনে বসবাস করেন এবং যুক্তরাজ্যের বার্কলেস ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।

সাদাত মান্নানের কর ফাইল সিআইসিতে স্থানান্তর করার আগে কর অঞ্চল-১৫ প্রথম তদন্ত করে।কর অঞ্চল-১৫ এর কমিশনার লুত্ফুল আজিম বলেন, ‘আমরা সাদাত মান্নানের ১০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের তথ্য পেয়েছি।’

যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাদাত মান্নানকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর বাবা এম এ মান্নান নিজের ও সন্তানদের অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তাঁর কোনো অবৈধ সম্পদ নেই, এবং জানা মতে সন্তানদেরও নেই। ঢাকার এক ভবনে ছেলের সাতটি অ্যাপার্টমেন্ট থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, সেগুলো সাদাত মান্নান তাঁর মামার কাছ থেকে কিনেছেন, যিনি দেশে থাকেন না।

ছেলের অর্থপাচারের মাধ্যমে বিদেশে সম্পদ অর্জনের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যদি এনবিআরের কাছে কোনো প্রমাণ থাকে, তাহলে তারা আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এখানে কোনো সমস্যা নেই।’

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, এসব সম্পদ অর্থপাচারের ফল হতে পারে। পাশাপাশি বনানীর মতো এলাকায় এত কম দামে সাতটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হওয়াকে তিনি অবাস্তব মনে করেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!