শুল্ক যুদ্ধের বৈশ্বিক ক্ষতি হবে ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার!

বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক যুদ্ধের চড়া মূল্য দেবে পুরো বিশ্ব। যার পরিমাণ ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি (বা ১.৪ ট্রিলিয়ন) ডলারে পৌঁছাতে পারে। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এতথ্য। বাণিজ্য যুদ্ধের একাধিক বিদ্যমান ও সম্ভাব্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্বাভাস মডেল তৈরি করেছেন অ্যাস্টন বিজনেস স্কুলের অর্থনীতিবিদরা। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের প্রতিক্রিয়ায়, বৈশ্বিকভাবে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্কারোপের মতো একটি পরিস্থিতির ঝুঁকি ও প্রভাব অনুমান করেছে এই মডেল।

অ্যাস্টন বিজনেস স্কুলের হিসাবমতে, পূর্ণদ্যমে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক কল্যাণের ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছাতে পারে। বৈশ্বিক কল্যাণের ক্ষতি বলতে, উচ্চ শিল্কের কারণে পণ্যদ্রব্যের চড়াদাম, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হ্রাস ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিচ্ছিন্ন অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। যেমনটা ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের সময়েও দেখা গেছে। তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতায় ফিরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালে বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদের দুয়ার খুলে দিয়েছেন, ফলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্ববাণিজ্যকে নতুন রূপ দিয়েছেন তিনি। কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের বিরুদ্ধে প্রথম দফায় দেওয়া শুল্ক থেকে শুরু করে পূর্ণমাত্রার বাণিজ্যযুদ্ধ— এমন ছয়টি পরিস্থিতির ক্ষতিকে অনুমান করা হয়েছে।

গবেষণার মূল ফলাফলগুলো হলো-

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফার শুল্কের প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্রে দ্রব্যমূল্য ২.৭ শতাংশ বাড়তে পারে, দেশটির মাথাপিছু জিডিপির হ্রাস পেতে পারে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। সে তুলনায়, কানাডার কল্যাণ ৩.২ শতাংশ এবং মেক্সিকোর ৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।

কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের পাল্টা শুল্কারোপের প্রভাব: এতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি আরও বেড়ে ১.১ শতাংশ হবে, কানাডা ও মেক্সিকোর ক্ষেত্রে যা হবে ৫.১০ ও ৭.১০ শতাংশ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ: এতে আন্তঃআটলান্টিক বাণিজ্যে তীব্র সংকোচন দেখা দেবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্যাহত হবে উৎপাদন। ক্ষতিগ্রস্ত হবে যুক্তরাষ্ট্র, বাণিজ্য থেকে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতির কল্যাণ এতে ১.৫০ শতাংশ হ্রাস পাবে।

মার্কিন পণ্যে ইইউয়ের পাল্টা ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ: ইইউ এই সিদ্ধান্ত নিলে– যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউয়ের দেশগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের দাম চড়া হবে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক কল্যাণের লোকসান গভীরতর হবে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হবে। তবে এতে যুক্তরাজ্যের সাথে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য বাড়তে পারে, লন্ডন এই বিকল্প বাণিজ্য থেকে মাঝারি ধরনের সুবিধাভোগী হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক শুল্কারোপ: যুক্তরাষ্ট্র যদি তার বাণিজ্য অংশীদার বেশিরভাগ দেশের ওপরই বৈশ্বিকভাবে শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত নেয়— তাহলে বিশ্ববাণিজ্য মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে। বিভিন্ন পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য থেকে কল্যাণ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে। যুক্তরাজ্যের সাথে বাণিজ্যও হ্রাস পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানির ওপর বিশ্বব্যাপী পাল্টা শুল্কারোপের পরিণতি: এতে বিশ্ববাণিজ্য বিঘ্নিত হবে নিদারুণভাবে, কমবে বাণিজ্যের প্রবাহ। যুক্তরাষ্ট্রের কল্যাণের মারাত্মক ক্ষতি হবে। এমনটা হলে বৈশ্বিক কল্যাণের ক্ষতি পৌঁছাবে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারে।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!