আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর আগ্নেয়াস্ত্র বিশেষ করে রাইফেল, পিস্তল, রিভলভার বা শর্টগান মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম কর আদায় করা হবে, যা বর্তমানে আদায় করা হয় না। এই করের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হবে। এই কর আদায়ে আয়কর আইনে নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে, যা অর্থবিল, ২০২৬-এ উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থবিলে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর নতুন ধারা ১৫৩ক সন্নিবেশ করা হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা নিবন্ধন বা লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অগ্রিম আয়কর এ-চালানের মাধ্যমে জমা হয়েছে কিনা-তা যাচাই করবেন। বন্দুক বা শর্টগান বা রাইফেলের জন্য মালিকদের লাইসেন্স নিবন্ধন বা নবায়নের সময় ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে। এছাড়া পিস্তল বা রিভলবারের লাইসেন্স নিবন্ধন বা নবায়নের সময় ১ লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে।
এনবিআর সূত্রমতে, বর্তমানে ব্যক্তিগত পিস্তল, রিভলভার বা শটগানের লাইসেন্স নবায়নে কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হয় না। বর্তমান পিস্তল বা রিভলভারের জন্য ২০ হাজার এবং শটগান বা রাইফেলের জন্য ১০ হাজার টাকা ফি দিতে হয়। এছাড়া সকল নবায়ন ফি’র সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১০ শতাংশ উৎসে কর দিতে হয়। অপরদিকে, ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমদানি করা রিভলভার, পিস্তল বা শটগানের ওপর সাধারণত ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রয়েছে। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক এবং অগ্রিম আয়কর মিলিয়ে আমদানি করা অস্ত্রের দামের বড় একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট প্রায় ৫৩ হাজার ৭০২টি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। এর মধ্যে—ব্যক্তি পর্যায়ে ৪৮ হাজার ২৮৩টি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ৪ হাজার ৮৫৪টি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৬৫টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। যদি ৫০ হাজার লাইসেন্সধারী গড়ে ২০ হাজার টাকা করে নবায়ন ফি এবং ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রদান করেন, তবে শুধুমাত্র নবায়ন থেকেই বছরে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব। এর বাইরে নতুন লাইসেন্স ফি এবং মালিকদের দেওয়া ব্যক্তিগত আয়কর যুক্ত করলে এই অংক আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী এই ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেমন-ব্যক্তি পর্যায়ে পিস্তল ও রিভলভারের লাইসেন্স ইস্যু ফি ৩০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার টাকা করা হয়েছে। নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর রাইফেল ও শটগানের লাইসেন্স ইস্যু ফি ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অস্ত্র ব্যবসায়ী ও মেরামতকারীদের লাইসেন্স ফি ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এনবিআর সূত্রমতে, আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকদের জন্য সরকার মোটা অংকের আয়কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রেখেছে, যা পরোক্ষভাবে বড় অংকের রাজস্ব নিশ্চিত করে। যেমন-পিস্তল বা রিভলভারের আবেদনকারীকে বিগত ৩ বছর ধরে বার্ষিক নূন্যতম ৫ লাখ টাকা আয়কর দেওয়ার প্রমাণ দেখাতে হয়। যা আগে ছিল ৩ লাখ টাকা। আর শটগানের আবেদনকারীকে বার্ষিক নূন্যতম ২ লাখ টাকা আয়কর দিতে হয়। যা আগে ছিল ১ লাখ টাকা।
