বায়ুদূষণ কমাতে এয়ার পিউরিফায়ারের শুল্ক কমলো

বায়ুদূষণের প্রভাব মোকাবিলায় এয়ার পিউরিফায়ার বা বায়ু বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র আমদানির ওপর শুল্কহার হ্রাসসহ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক এবং আগাম কর প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সোমবার (২০ জানুয়ারি) এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সই করা এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন করা হয়েছে। তবে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসানের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে এনবিআর থেকে জানানো হয়েছে।

এনবিআর থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে থাকা শহরের তালিকায় ঢাকা ও বাংলাদেশের অন্যান্য শহরের নাম রয়েছে। এ বায়ুদূষণের ফলে জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতিসহ জনগণের প্রভূত আর্থিক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। সে প্রেক্ষাপটে বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আমদানি পর্যায়ে শুল্ক-কর হ্রাস করার মাধ্যমে এয়ার পিউরিফায়ারের মত কার্যকর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম সহজলভ্য করতে এয়ার পিউরিফায়ারের আমদানিতে বিদ্যমান কাস্টমস শুল্ক ২৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে ১০ শতাংশ, ৩ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক ও ৫ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণ অব্যাহতি প্রদান করেছে। এই অব্যাহতি প্রদানের ফলে এয়ার পিউরিফায়ার আমদানিতে বিদ্যমান মোট করভার (টিটিআই) ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ হতে হ্রাস পেয়ে ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশে নির্ধারিত হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি এয়ার পিউরিফায়ারের আমদানি খরচ প্রকারভেদে দেড় হাজার টাকা হতে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত হ্রাস পাবে। আমদানি ব্যয় কমার কারণে এয়ার পিউরিফায়ার জনগণের নিকট কমদামে সহজলভ্য হবে। এয়ার পিউরিফায়ারের বহুল ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে এনবিআর মনে করে।

474410387 28825580830373840 7631193200810617296 n
অপরদিকে, এনবিআরের চেয়ারম্যানকে লেখা চিঠিতে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেছেন, বায়ুদূষণ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাবের মধ্যে আছে শ্বাসতন্ত্রের রোগ বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা হ্রাস ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ বৃদ্ধি। বায়ুদূষণ মোকাবিলায় এয়ার পিউরিফায়ারের মতো কার্যকর দূষণ নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম সহজলভ্য করা জরুরি। বর্তমানে উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে এয়ার পিউরিফায়ারের দাম সাধারণ জনগণ ও স্কুল, হাসপাতালের মতো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সহজলভ্য নয়। শুল্ক হ্রাস করে এই যন্ত্র সহজলভ্য করা হলে তা বায়ুদূষণ থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এয়ার পিউরিফায়ারের শুল্ক কমানোর ফলে প্রাথমিকভাবে রাজস্ব কমলেও দীর্ঘ মেয়াদে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের চাপ কমবে বলে মনে করেন পরিবেশ উপদেস্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি মনে করেন, এতে সরকারের আর্থিক সুবিধা বাড়বে। শুল্ক কমানো হলে এয়ার পিউরিফায়ারের আমদানি বাড়তে পারে। তাতে সামগ্রিক রাজস্ব ক্ষতিও পূরণ হয়ে যেতে পারে। বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে থাকা শহরের তালিকায় ঢাকা ও বাংলাদেশের অন্যান্য শহরের নাম আছে। বৃহত্তর ঢাকার আশপাশের বাতাসে বায়ুদূষণের মূল উপাদান পিএম ৫-এর বার্ষিক মান ৯০–১০০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার। দেশের অন্যান্য এলাকায় যার বার্ষিক মান ৬০ থেকে ১০০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত মান থেকে যা অনেক বেশি।

চিঠিতে পরিবেশ উপদেষ্টা আরও জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের কারণে দেশের জিডিপির প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বায়ুদূষণের কারণে জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ মানুষের গড় আয়ুতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!