পোলট্রি শিল্পে ব্যবহৃত পানিতে অত্যধিক মাত্রার ভারী ধাতু (হেভিমেটাল) শনাক্ত করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। তবে পোলট্রি মাংসে অ্যান্টিবায়োটিক থাকা সত্ত্বেও তা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। এই ফলাফল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) আয়োজিত গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সেমিনারে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে পোলট্রি শিল্পে ভারী ধাতু ও অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে। গবেষণার উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রাণীসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ এ. সামাদ। তিনি জানান, গত ১০০ বছরে মানুষের সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে এবং গত ৫০ বছরে প্রোটিনের পরিমাণ ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত পোলট্রি শিল্পের উৎপাদন অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে প্রোটিন উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে মানুষের এবং প্রাণীর ঘনত্বও বেশি, যার ফলে রোগবালাইও বেড়েছে। এ কারণে পোলট্রি শিল্পে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষক বলেন, দেশে প্রতিদিন ১৫ লাখ মানুষ পোলট্রি খামারারের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক কিনে থাকেন। এটি মোট খামারির ৬৮ শতাংশ। দেশের চার বিভাগের সাতটি জেলার ১০০ ফার্মের তথ্য নিয়ে এই গবেষণা করা হয়। ব্রয়লার, সোনালি ও লেয়ার মুরগির খাদ্য, পানি, ডিম ও মাংস নিয়ে গবেষণা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ৮৪ শতাংশ মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে জানেন। তবে ৮০ শতাংশ মানুষ পশু ও পাখির খাদ্যে এটির ব্যবহারের আইন সম্পর্কে জানেন না।
৬৫ শতাংশ খামারি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন সম্পর্কে আগ্রহী নেই। ডিম ও ব্রয়লার মাংসে সিপ্রোফ্লক্সাসিন অ্যান্টিবায়োটিক বেশি বেশি হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারে এসব বেশি বেশি করা হচ্ছে। তবে বড় খামারে ব্যবহার কম হচ্ছে। বগুড়া ও জয়পুরহাটে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। সোনালি মুরগি বড় হতে ৯০ দিন সময় লাগে। তাই সেখানে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেশি।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের এক গবেষণা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশে সাড়ে তিন কোটি শিশু সিসায় আক্রান্ত। এটি আমাদের জন্য সতর্ক সংকেত। আর এটি প্রতিহত করতে ১০ বছরের অ্যাকশন প্ল্যান করা হচ্ছে। আগে প্রাকৃতিকভাবে কৃষক ফল পাকাতেন। কিন্তু বর্তমানে ফলের চাহিদা বাড়ায় অবৈধ উপায়ে ফল পাকানো হচ্ছে। এটি কীভাবে বৈধভাবে করা যায় সে সম্পর্কে গবেষণা করা হয়। জাকারিয়া বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক যে লেভেলে আছে তা সর্বনিম্ন মাত্রার কাছাকাছি। তবে হেভিমেটাল বেশি আছে।
বিএফএসএ-এর চেয়ারম্যান জাকারিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসিন। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজীজ এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পিএসও ড. তাসরিন রাবিয়া চৌধুরী।