ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি এটিকে দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পর্যবেক্ষক মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইভার্স ইজাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর এবারই প্রথম নির্বাচনটি সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন একটি আইনি কাঠামোর আওতায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে বিকৃত বা প্রভাবিত বর্ণনার মাধ্যমে উসকানি পেয়েছে এবং এতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং অংশীজনদের আস্থা বজায় রেখে নির্বাচনের অখণ্ডতা রক্ষা করেছে। মিশনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, বিদ্যমান নির্বাচনী আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার উপযোগী এবং ২০২৫ সালের সংশোধনীগুলো অন্তর্ভুক্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়েছে। তবে আইনি সুরক্ষা জোরদার করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতায় ঘাটতি সৃষ্টি করে—এমন ফাঁকফোকর দূর করতে আরও সংস্কার প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
ইইউ মিশনের প্রধান বলেন, আমরা দেখেছি, সদ্য নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে এবং আমরা লক্ষ্য করেছি, অন্তর্বর্তী সরকার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা কমিশনকে যে সমর্থন দিয়েছিলেন কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে, সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের দ্রুত জবাব দিয়েছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য ভাগ করে নিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছে।
ইভার্স ইজাবস বলেন, নারীরা জুলাই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিলেও নির্বাচনে তাদের উপস্থিতি মাত্র ৪ শতাংশ। ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি, বৈষম্য হয়েছে নারীদের সঙ্গে৷ জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার স্পষ্ট অভাব লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের বাদ দেওয়ার পুরনো প্রথা এখন পরিত্যাগ করার সময় এসেছে। প্রচারণার সময় ভীতি প্রদর্শন এবং বিশেষ করে নারী প্রচারকদের হয়রানি করার ঘটনা ঘটেছে। ইইউ আরও বলেন, ৫৬টি প্রচারণা সংক্রান্ত সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে শারীরিক আঘাত এবং প্রাণহানির মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। কারসাজি করা অনলাইন বর্ণনা বা প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতাকে উসকে দেওয়া হয়েছে যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষতি করে। ভুল তথ্য বা অপপ্রচার রোধে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো খুব ধীরগতিতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণও হতাশাজনক। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের ধৈর্য এবং শান্ত বয়বহারকে আমরা স্বাগত জানাই। নতুন সরকারের মানবাধিকার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কাজ করতে হবে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমর্থকদের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। গণতান্ত্রিক নির্বাচন এবং সুশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আরও কাজ করা প্রয়োজন।
