জালিয়াতির মাধ্যমে এক্সিম ব্যাংকের ৬১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামিদের মধ্যে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও নাসা গ্রুপের কর্ণধার মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারও রয়েছেন। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল-আমিন বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি করেন। বর্তমানে নজরুল ইসলাম মজুমদার কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে ফ্লামিংগো এন্টারপ্রাইজ নামের অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেন। যাচাই বা পরিদর্শন না করে জামানত ছাড়া টাকা দেওয়া হয়। বিতরণ করা ঋণের মাধ্যমে ক্রয় বা আমদানি করা পণ্য সরেজমিন পরিদর্শন ও স্টক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়নি। কোনো পেমেন্ট না হওয়া সত্ত্বেও বিতরণ ঋণ প্রকৃত উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে কাগুজে লেনদেন করে মানি লন্ডারিং অপরাধ করা হয়েছে।
ওই টাকা নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে নগদ জমা স্থানান্তর এবং নজরুল ইসলাম মজুমদারের পক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে পে-অর্ডার করা হয়েছে। আসামিরা ওই অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর, হস্তান্তর করে দণ্ডবিধি ৪২০/৪০৯/৪/৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭ এর ৫(২) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
অন্য আসামিরা হলেন– ফ্লামিংগো এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. মোশারফ হোসেন, নাসা বেসিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালিদ ইবনে ইসলাম, মিসেস আনিকা ইসলাম, মদিনা ডেটস অ্যান্ড নাটসের মালিক মোজাম্মেল হোসাইন, জান্নাত এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, এমএনসি অ্যাপারেলস লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম ভূঁইয়া, এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপক (এসডিপি) মোহাম্মদ আশরাফুল হক, এডিপি অ্যান্ড সেকেন্ড অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক এসপিও অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অফিসার মো. হুমায়ুন কাদের হিমু, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক ব্যবস্থাপক মো. মনোয়ার হোসেন, সাবেক এসডিপি মেফতা উদ্দিন খান প্রমুখ।