সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাড়ানোর পরেও বিস্কুট, কেক, জুস-ড্রিংকসহ খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি। তবে উৎপাদকরা এনবিআরের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করলেও কোনো ফল হয়নি। আগামী বাজেটের আগে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার না করার ঘোষণা দেওয়ায়, এসব পণ্যের দাম বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিস্কুট, কেক, জুস—এসব এখন প্রায় নিত্যব্যবহার্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। সন্তানের টিফিন বক্সে এসব খাবার বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেছে। তাই দাম বাড়লে নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্তসহ সবার ওপর তার কমবেশি প্রভাব পড়বে।
উৎপাদকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়,আগে ১০০ টাকার ফলের রসে ১০% সম্পূরক শুল্ক ও ১৫% ভ্যাট আরোপ ছিল, যা ছিল সাড়ে ২৬ টাকা। এখন সম্পূরক শুল্ক ১০% থেকে ১৫% বাড়িয়ে শুল্ক-কর ৩২ টাকা ২৫ পয়সা করা হয়েছে, যা প্রায় ৬ টাকা বাড়িয়েছে।
একইভাবে ফ্লেভারড কার্বোনেটেড ড্রিংকের ওপর ৩০% সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, ফলে ১০০ টাকার ড্রিংকের ওপর শুল্ক-কর বেড়ে সাড়ে ৪৯ টাকা হয়েছে, যা সাড়ে ৩৪ টাকা বাড়িয়েছে। নন-ফ্লেভারড কার্বোনেটেড ড্রিংকের ওপর ১৫% শুল্ক বসানোর ফলে ১০০ টাকার পণ্যে ১৭ টাকার বেশি শুল্ক-কর বাড়বে। আগে মেশিনে তৈরি ১০০ টাকার বিস্কুট ও কেকের ওপর ভ্যাট দিতে হতো ১০ টাকা। এখন দিতে হবে ১৫ টাকা। ফলে প্রতি ১০০ টাকায় খরচ বাড়ল ৫ টাকা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বিস্কুট-কেক এখন আর বিলাস পণ্য নয়। এসব পণ্য মুটে-মজুরেরাও খায়। অনেক রিকশাওয়ালা কলা–পাউরুটি বিস্কুট খেয়ে ক্ষুধা দূর করেন। তাই এ ধরনের পণ্যে শুল্ক-কর বসানো উচিত নয়।
বিস্কুট, কেক, জুস, ড্রিংকের ওপর বর্ধিত সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট কমানোর জন্য এক মাস ধরে দাবি করে আসছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকও করেছেন ব্যবসায়ীরা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বর্ধিত ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য বাজেট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, বাড়তি শুল্ক ও ভ্যাট আরোপ করলে পণ্যের দাম বাড়বে। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে বিস্কুটের দাম খুবই কম, আর কোথাও এত কম দামে বিস্কুট বিক্রি হয় না। তারা চেষ্টা করছেন ৫ টাকার বিস্কুট ৫ টাকায় বিক্রি করার, যাতে ১০ টাকা না নিতে হয়।