একজন উপ-কর কমিশনারের ৬ কোটি টাকার সম্পদ! বিষয়টি বিস্ময়ের হলেও সত্য। ২০১২ সালে চাকরিতে যোগ দিয়ে গত ১০ বছরে এই সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য। ঢাকার কর অঞ্চল-৬-এর উপ-কর কমিশনার মেহেদী হাসান খন্দকারের বিপুল পরিমাণ এই সম্পদের মালিক হওয়ায় অবাক দুদকও। কর অঞ্চল-৪-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বাড়ি, গাড়ি, জমি, ফ্ল্যাটসহ নানা সম্পদ রয়েছে তার। মেহেদী হাসান খন্দকার সমকালকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দুদকে দেওয়া অভিযোগটি সঠিক নয়। ব্যক্তিগত একটি বিষয় নিয়ে তাঁর প্রতিপক্ষ এই অভিযোগ পেশ করেছে।
দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, মেহেদীর ৩০ লাখ টাকা মূল্যের প্রিমিও সুপিরিয়র গাড়ি রয়েছে। ঢাকার মিরপুর-১২ এলাকায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ১ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। নিজ গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খামারবাড়ি নির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকায় কিনেছেন সাত বিঘা জমি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার খোরানাল গ্রামে বিলাসবহুল দোতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে তিন ইউনিটের ছয়তলা বাড়ি রয়েছে তার। নিজ এলাকার ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিলে গাজীপুর সদরে ১০ কাঠা জমি কিনেছেন।
সূত্র জানায়, টয়োটা ব্র্যান্ডের ১ হাজার ৫০০ সিসির একটি গাড়ির মালিকানা যাচাইয়ের জন্য দুদক থেকে বিআরটিএতে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন সাসপেন্ড (স্থগিত) অবস্থায় আছে, যা ঢাকা মেট্রো-১ কর্তৃপক্ষের অধীনে রয়েছে। গাড়িটি ২০১৪ সালে তৈরি হয়। দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা নিজেদের সম্পদকে আড়াল করতে অনেক সময়ই দামি গাড়ি সাসপেন্ড অবস্থায় রেখে দেন।
উপ-কর কমিশনার মেহেদীর বিরুদ্ধে দুদকে পেশ করা অভিযোগে বলা হয, তিনি ইতালি প্রবাসী বন্ধু শফিক মিঠুর সহায়তায় অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন। পাচার করা অর্থ ইতালিতে হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। ওই উপ-কর কমিশনারের স্ত্রী একজন গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রীর আয়কর নথিতে মোটা অঙ্কের অর্থসম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি অবৈধভাবে অর্জিত অর্থসম্পদ স্ত্রীর নামে রেখেছেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
মেহেদীর চাকরি অনেক বছর হলেও তিনি এখন পর্যন্ত প্রভাব খাটিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নেননি। নিজের অফিস স্টাফদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগটির প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করেছে দুদক। এবার তার বিরুদ্ধে ব্যাপকভিত্তিক অনুসন্ধান করা হবে। নামে-বেনামে থাকা অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।