আয় বহির্ভূত শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহ মো. ইয়াকুব-উল-আজাদের বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি ফ্ল্যাট ও দোকান বরাদ্দের নামে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।

তার বিরুদ্ধে প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ীরা মামলাও করেছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় ৫৩ শতক জমির ওপর ১৭তলা এআরসিটি নামে একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। এছাড়া খুলনায় রওশন ক্লিনিক নামে ৫তলা ভবন, ঢাকার শ্যামলী শিয়া মসজিদ এলাকায় ৬৬ কাঠা জমির ওপর তিনটি নয়তলা ভবন এবং রংপুরের পীরগঞ্জ, ধাপেরহাট ও পলাশবাড়ীতে প্রায় সাড়ে ৩০০ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন তিনি।

প্রায় চার বছর আগে রংপুরের ধাপ এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকার পাথর কেনেন তিনি। তবে পাওনাদার ব্যবসায়ীদের অর্থ পরিশোধে তিনি দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করছেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন, ফলে প্রতারিত ব্যবসায়ীরা তাদের পাওনা টাকা আদায় করতে পারছেন না।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন জানান, তাকে এআরসিটি মার্কেটে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে তার কাছে এক কোটি দশ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্ত আজ পর্যন্ত তাকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। টাকা চাইলে উলটো মিথ্যা মামলাও দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে।দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে রংপুর ইসলামী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মালেকের কাছ থেকে ৫০ লাখ, দিনাজপুরের সিঙ্গারের ম্যানেজারের কাজ থেকে আট লাখ, ওই ব্যাণিজ্যিক ভবনের ১০ হাজার স্কয়ার ফুট বরাদ্দের নাম করে ব্যবসায়ী মোস্তাক সরওয়ার্দীর কাছে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা, রড, সিমেন্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের কাছে ১২ কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ীরা জানান, ডা. শাহ মো. ইয়াকুব-উল-আজাদ আত্মগোপনে থাকায় এআরসিটি ব্যাণিজ্যিক ভবনের কিছু অংশ বিক্রি করেছেন। আর কিছু অংশ ভাতিজার নামে হস্তান্তর করেছেন। তার অন্যান্য সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানান তারা। ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন জানান, আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি ডাক্তার ইয়াকুব খুলনায় আত্মগোপনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের মামলা করায় তিনি দেশ থেকে পালানোর চেষ্টাও করছেন বলে জানা গেছে।

ডা. ইয়াকুবের বড় ভাই আইয়ুব আলী জানান, মাঝে মধ্যে ভাই ইয়াকুব রংপুর ও গ্রামের বাড়ি পীরগঞ্জ উপজেলার আজমপুর নুনিয়া গাড়িতে আসেন। দুই একদিন থাকার পর আবার চলে যান। এখানে তার প্রায় ৫০ একর কৃষি জমি, পুকুর ও বাড়ি রয়েছে। এগুলো দেখার জন্য লোকজন রয়েছে। তারাই বলতে পারবেন কখন কোথায় থাকেন।অভিযোগ সম্পর্কে ডা. শাহ মো. ইয়াকুব-উল-আজাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কথা বলতে অস্বীকার করেন। তার হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ী জাকির হোসেন ও বেলাল হোসেন জানান, ডা. শাহ মো. ইয়াকুব-উল-আজাদ রংপুর মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও গাইবান্ধা জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা ছিলেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!