গোয়েন্দার চিঠি পেয়ে টাকা সরালেন এমডি

এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ (এক্সিম ব্যাংক)। এই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন। এই করদাতার বিরুদ্ধে করফাঁকির প্রমাণ পায় আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। যার প্রেক্ষিতে এক্সিম ব্যাংকের এমডির ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে এক্সিম ব্যাংকে চিঠি পাঠায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। ২৬ আগস্ট এক্সিম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠিটি পৌঁছানোর পরপরই নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলে নেন মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন। এনবিআর সূত্র ও ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনের আয়কর রিটার্ন, সম্পদ পর্যালোচনা ও অবৈধ আয় খতিয়ে দেখছে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। পর্যালোচনায় আয়কর ফাঁকির প্রমাণ পায় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এরই প্রেক্ষিতে ২৬ আগস্ট এক্সিম ব্যাংকের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট এক্সিম ব্যাংকে চিঠি দেন। ওই দিন দুপুরের পর এক্সিম ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা চিঠি গ্রহণ করেন। নিজের ব্যাংক হিসাব জব্দে নিজের ব্যাংকে চিঠি এসেছে বিষয়টি জানতে পারেন মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন। তিনি ওই দিন বিকেল ৪টা ৯ মিনিটে এক্সিম ব্যাংকের হিসাব থেকে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা তুলে নেন। যদিও ব্যাংক হিসাবে থাকা বাকি টাকা তুলতে সক্ষম হননি তিনি।

এই বিষয়ে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপন বলেন, ২৬ তারিখ লাঞ্চ আওয়ারের পরই এ চিঠিটা ব্যাংক রিসিভ করেছে। এখন শাখায় পাঠাতেও তো একটা প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়। শাখা এই চিঠি কয়টায় পেয়েছে এবং এমডি সাহেব কয়টায় টাকা স্থানান্তর করেছেন-বিস্তারিত আমার জানা নেই। আমি জানার চেষ্টা করছি। জেনে আপনাকে জানাব। আর তার তো ব্যাংকে দেড় কোটি টাকার মতো আছে। সেখানে ৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করেছেন—এটা কোনো টাকা হলো?

এই বিষয়ে এক্সিম ব্যাংকের এমডি ফিরোজ হোসেন বলেন, রাজস্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছিল। এ জটিলতা সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। কিন্তু জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে পরিশোধ করে দিয়েছি। এজন্য ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ এরই মধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই চিঠি আছে আমার কাছে। আর আমি এখন দায়িত্ব পালন করছি না। ছুটিতে আছি।

সূত্রমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এক্সিম ব্যাংকে অনিয়মের তদন্তের স্বার্থে গত ৫ জানুয়ারি এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ হোসেনসহ অন্য আরও চার ব্যাংকের এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। এসব এমডি ব্যাংকগুলোতে চালানো ফরেন্সিক অডিটে যাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে না পারেন-সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শেই তাদের ছুটিতে পাঠানো হয়। এরপর থেকে ফিরোজ হোসেন এখনো ছুটিতে রয়েছেন। তবে ২৭ আগস্ট ফিরোজ হোসেনের ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

** করদাতার তথ্য নিয়ে ‘এক্সিম ব্যাংকের’ লুকোচুরি
** ২৬ ব্যাংকের এমডি ও পরিচালকের সম্পদ যাচাই হচ্ছে
** এক্সিমের সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা আত্মাসাৎ, মামলা
** আগামী সপ্তাহে একীভূত হচ্ছে ৫ ইসলামী ব্যাংক
** ৩৮৯ কোটি টাকা দেয়নি, এক্সিমের কার্যালয় জব্দের আদেশ
** পাঁচ ব্যাংক মিলে এক ব্যাংক, জুলাই-অক্টোবরে একীভূত
** ১৮ ব্যাংককে লভ্যাংশ দিতে নিষেধাজ্ঞা
** ‘দুর্বল ৬ ব্যাংক একীভূত হবে জুলাইয়ের মধ্যে’
** ৬ ব্যাংকের সংকট কাটছে, রোববার থেকে গ্রাহক পাবেন
** ১২ ব্যাংকের অনিয়ম, কর আদায় করেনি ৩১৫ কোটি
** এফডিআর ভাঙ্গে-গড়ে, রিটার্নে দেখান না কর আইনজীবী!
** নজরুলসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
** পুতুল ও জয়ের দুই প্রতিষ্ঠানের কর নথি চায় দুদক
** রপ্তানির ছলে ১৫০০ কোটি টাকা পাচার
** এস আলমের জামাতা হাতিয়েছেন ৩৭৪৫ কোটি টাকা
** নজরুলের ৬২০ কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত
** নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যানের ৬ বাড়ি, ৮ ফ্ল্যাট জব্দ
** রপ্তানি না করে-ই ৩৩ কোটি টাকা প্রণোদনা আত্মসাৎ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!