অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরলেও দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, চীন ও ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির কারণে বাংলাদেশ সুফল পেতে পারে। এতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকেই ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মার্কিন সরকার ভারতের ওপর বাংলাদেশের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি শুল্কারোপ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি ১২০ থেকে ২০৭ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে চীনের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের কারণে দেশটিতে সাত থেকে পঁচিশ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্প সরকারের শুল্কনীতির প্রভাবেই আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ইআরএফ-এর আলোচনায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, মার্কিন শুল্কের কারণে চীন ও ভারতের রপ্তানি ব্যাহত হলেও, বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে আমেরিকার বাজারে ভারত ও চীনের মিলিত রপ্তানি ১৮৭ থেকে ২৩২ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরেছে এবং কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট, দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংক খাত, অনুন্নত শ্রম বাজার ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের কারণে বাংলাদেশ এখনও মধ্যম আয়ের দেশের ফাঁদে পড়ে আছে, এমন মূল্যায়ন করেন অর্থনীতিবিদ।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক এই মুখ্য অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ একটা মধ্যম আয়ের ফাঁদে ঢুকে গেছে। মাথাপিছু আয় বাড়ছে দরিদ্র্যতার হারও বাড়ছে এটাকেও যদি ফাঁক না বলি তাহলে ফাঁকটা কী? জ্বালানি সংকট, কারখানায় গ্যাস পাওয়া যায় না, ফ্যাক্টরি চলতে পারে না। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া যায় না। ক্ষুদ্র পর্যায়ে অবস্থা, বাড়ি বাড়ি অবস্থা ভালো না।’এসময়, এলডিসি উত্তরণ পূর্বে জাতীয় ও অর্থনৈতিক সংস্কারে তেমন অগ্রগতি নেই বলেও মনে করেন আলোচকরা।