পাঁচ বছর আগে ধারাবাহিক লোকসানের কারণে পাবনা সুগার মিল বন্ধ হয়। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয় দ্বিতীয় ধাপে মিল চালুর অনুমতি দিলেও ১০ মাসেও তেমন অগ্রগতি নেই। কয়েক বছর ধরে মিলের চাকা ঘুরছে না, প্রায় ৮০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ ও মালপত্র নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া বড় ঋণের বোঝা টানতে হচ্ছে এবং কর্মরতদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়ায় ৬০ একর জমিতে ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পাবনা সুগার মিল স্থাপন করা হয়। ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের পর পরবর্তী বছর আখ মাড়াই মৌসুমে মিলটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। মিল পরিচালনা স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন খাত থেকে ঋণ নেওয়া হয়, যা সময়ের সঙ্গে সুদসহ বাড়তে থাকে। উৎপাদনের দেড় দশক পর ঋণের বোঝা ভারী হয়ে গেলে ধারাবাহিক লোকসানের কারণে মিলটি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে।
২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ঋণের সুদসহ গড়ে লোকসান হয় প্রায় ৬৮ কোটি টাকা। এরপর ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর মিলটির মাড়াই বা উৎপাদন কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেয় সরকার। মিলটির হিসাবরক্ষণ বিভাগ বলছে, উৎপাদন বন্ধের বছরেও মিলটি প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টন চিনি উৎপাদন করে। কিন্তু বর্তমানে সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মিলের কাঁধে বর্তমানে ৫৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে।
ঋণের সঙ্গে প্রতি বছর গড়ে ৪৫ কোটি টাকা সুদ যুক্ত হচ্ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও মিলের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক কাজের জন্য কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ১৪–১৫ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। বেতন-ভাতার এই ব্যয় ২০২১-২২ অর্থবছরে পাঁচ কোটি ৯০ লাখ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুই কোটি ৩৭ লাখ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুই কোটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা। মিলের যন্ত্রপাতি ও মালপত্র রক্ষার জন্য বর্তমানে ৩০ জন নিরাপত্তাকর্মী আছেন, যাদের মাসিক বেতন-ভাতার গড় ব্যয় পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এছাড়া মিলের প্রশাসনে ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয়, হিসাবরক্ষণে ছয়, কারখানায় তিন, ইক্ষু বিভাগে দুই, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ চতুর্থ শ্রেণিতে পাঁচ এবং মসজিদের ইমামসহ মোট ২৩ জন কর্মরত আছেন। উৎপাদনকালীন সময়ে মিলটিতে এক হাজার ২০০ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন।
মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘উৎপাদনের সময় মিলটি কর্মমুখর ছিল। তখন লোকবল বেশি লাগত। কিন্তু এখন শুধু পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক কাজের জন্য ২৩ জন কর্মরত আছি।’
