৫৫০ কোটি ডলারে সমঝোতা করতে চায় জনসন

পাউডারে ক্যান্সার ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন (জেঅ্যান্ডজে) তাদের বেবি পাউডার ও ট্যাল্কভিত্তিক অন্যান্য পণ্য ডিম্বাশয় (ওভেরিয়ান) ক্যানসারের কারণ—এমন অভিযোগে দায়ের হওয়া হাজারো মামলার নিষ্পত্তিতে ৫৫০ কোটি ডলারের সমঝোতা প্রস্তাব দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব আইনি জটিলতার অবসান ঘটাতেই প্রতিষ্ঠানটি এ উদ্যোগ নিয়েছে। বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরু থেকেই জেঅ্যান্ডজে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের দাবি, ট্যাল্কভিত্তিক পণ্যগুলো ক্যানসার সৃষ্টি করে না। তবে বিতর্কের মধ্যেই কোম্পানিটি তাদের বহুল ব্যবহৃত বেবি পাউডারের উপাদানে পরিবর্তন এনেছে।

উল্লেখ্য, ট্যাল্ক এক ধরনের নরম খনিজ উপাদান। এটি ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন দিয়ে গঠিত একটি প্রাকৃতিক খনিজ। এর মসৃণ গঠনের কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরে বেবি পাউডার ও নানা ধরনের প্রসাধণীতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে অ্যাসবেস্টস দূষিত ট্যাল্ক ব্যবহারে ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে।

জেঅ্যান্ডজের লিটিগেশন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস জানিয়েছেন, কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি জটিলতার অবসান ঘটাতেই তারা সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতার আওতায় প্রায় ৬৯ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হতে পারে, যার অধিকাংশই ট্যাল্ক-সম্পর্কিত। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী বছর সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হবে এবং ২০২৮ সালের আগে আর কোনো অর্থ দিতে হবে না। তবে সমঝোতাটি কার্যকর করতে হলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার সংক্রান্ত মামলার অন্তত ৯৫ শতাংশ বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী প্রতিষ্ঠানের সম্মতি প্রয়োজন হবে। তিনি আরও বলেন, সমঝোতা সম্পন্ন হলে এই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে কোম্পানিটি আবার জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি উদ্ভাবনে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে।

জেঅ্যান্ডজের ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার নিয়ে প্রথম মামলা দায়ের হয় ২০০৯ সালে। চলতি মাসের শুরুতে এক মার্কিন ফেডারেল আদালত কোম্পানিটির পক্ষে রায় দিয়ে উল্লেখ করেন, বাদীপক্ষ ট্যাল্ককে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের সরাসরি কারণ হিসেবে দাবি করলেও তা প্রমাণ করা জটিল। মামলায় অভিযোগ করা হয়, জেঅ্যান্ডজের ট্যাল্কজাত পণ্য অ্যাসবেস্টস নামের ক্যানসার সৃষ্টিকারী পদার্থে দূষিত ছিল। কারণ, সাধারণত ট্যাল্ক এমন খনি থেকে উত্তোলন করা হয় যেখানে কাছাকাছি অ্যাসবেস্টসের উপস্থিতি থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে জেঅ্যান্ডজে পুনরায় দাবি করেছে, তাদের ট্যাল্ক সম্পূর্ণ নিরাপদ, এতে কোনো অ্যাসবেস্টস নেই এবং এটি ক্যানসার সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত নয়।

২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে ট্যাল্ক-ভিত্তিক বেবি পাউডার উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর দুই বছরেরও বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে এই পণ্যের বিক্রি বন্ধ করা হয়েছিল। মসে সময় জেঅ্যান্ডজে জানিয়েছিল, তারা সব ট্যাল্ক-ভিত্তিক বেবি পাউডারের পরিবর্তে কর্নস্টার্চ-ভিত্তিক বেবি পাউডার বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।