Header – After

৫০৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ওরিয়ন চেয়ারম্যান

মামলা করবে দুদক

মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে ওরিয়ন গ্রুপ–এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওবায়দুল করিমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কমিশন এ মামলার অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, মামলায় ওরিয়ন গ্রুপের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড–এর সাবেক ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের বরাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপর্যাপ্ত জামানতের বিপরীতে ঋণ অনুমোদন দেন। অভিযোগে বলা হয়, ব্যাংকিং আইন লঙ্ঘন করে ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে নেওয়া বৈদেশিক মুদ্রার দুটি মেয়াদি ঋণ ডমেস্টিক ব্যাংকিং ইউনিটের আওতায় এনে দেশীয় মুদ্রায় নতুন দুটি মেয়াদি ঋণে রূপান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে শ্রেণিকরণযোগ্য ঋণের দায় পরিশোধের নামে নতুন ঋণ সৃষ্টি করে ওই ঋণের মেয়াদ আরও সাত বছর বাড়ানো হয়, যা গ্রাহককে অযৌক্তিক সুবিধা দিয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, ঋণের ডাউন পেমেন্ট যথাযথভাবে পরিশোধ না হলেও পুনঃতফসিলিকরণের মাধ্যমে প্রায় ৫০৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলা দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুদক আরও জানায়, তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করলে তা পর্যালোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

মামলায় ওরিয়ন গ্রুপের আসামিরা হলেন- গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সালমান ওবায়দুল করিম এবং ওরিয়ন গ্রুপ ও ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেডের পরিচালক আরজুদা করিম। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও প্রধান শাখার শাখা ব্যবস্থাপক গাউস-উল-ওয়ারা মোর্তজা, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ক্রেডিট ইনচার্জ (বর্তমানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ডিভিশন, সেন্ট্রালাইজড অপারেশন ডিভিশন) প্রতাপ কুমার দেশমুখ্য, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার অপারেশন (বর্তমানে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট) মো. অলিউল্লাহ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ রিস্ক অফিসার (বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক) মতিউল হাসানকেও আসামি করা হচ্ছে মামলায়।

ব্যাংকের সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (বর্তমানে ক্রেডিট ডিভিশনে কর্মরত) মো. আব্দুল কাদের, সাবেক ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (বর্তমানে প্রধান শাখার ক্রেডিট ইনচার্জ) মো. বাবর আলী মোল্লা, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ক্রেডিট ইনচার্জ মো. ইকরামুল ইসলাম খান, সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান শাখার শাখা প্রধান (বর্তমানে চিফ অপারেটিং অফিসার) মো. আব্দুল হালিম এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফরেন ট্রেড ইনচার্জ (বর্তমানে প্রধান শাখার ম্যানেজার অপারেশন) মো. আতিকুর রহমানের নাম রয়েছে আসামির তালিকায়।