৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডে বিস্ফোরণ

টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডে বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ী প্রমাণিত হওয়ায় কানাডাভিত্তিক কোম্পানি নাইকো রিসোর্সকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি) ট্রাইব্যুনাল। রায়ের মাধ্যমে এ অর্থ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইকসিডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নাইকোকে বাংলাদেশকে ৪২ মিলিয়ন ডলার প্রদান করতে হবে।

সুনামগঞ্জের ছাতকে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। পরের বছর কূপ খননের মাধ্যমে ১ হাজার ৯০ মিটার থেকে ১ হাজার ৯৭৫ মিটারের মধ্যে নয়টি গ্যাস স্তর শনাক্ত করা হয়। এখান থেকে উত্তোলিত গ্যাস ছাতক সিমেন্ট ও পেপার মিলে সরবরাহ করা হতো। প্রায় ২৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পর পানি উঠে আসায় কূপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গ্যাসক্ষেত্রটি নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

খনন কাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে গ্যাসক্ষেত্রের মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ জন্য নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা, তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

পরবর্তীতে ২০০৭ সালে পেট্রোবাংলা স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা করে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে নাইকোর ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস বিল পরিশোধ বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে হাইকোর্ট বাংলাদেশে অবস্থিত নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও সংশ্লিষ্ট চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গেলে সেখানেও বাংলাদেশের পক্ষে রায় বহাল থাকে। তবে গ্যাস বিল আটকে রাখা এবং ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে নাইকো ২০১০ সালে ইকসিডে দুটি মামলা দায়ের করে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে দেওয়া এক রায়ে ইকসিড পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেয়।

২০১৬ সালে নাইকোর বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা (প্রায় ১১৭ কোটি মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করে ইকসিডে মামলা করে বাপেক্স। সেই মামলার চূড়ান্ত আদেশে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ এলো। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেছে, নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনাতেই খননকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেয়ার কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে নাইকো সরাসরি এসব ঘটনার জন্য দায়ী।

This will close in 5 seconds