চলতি বছরের হজযাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার উদ্দেশে রওনা হয়। সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা সাউদিয়ার ফ্লাইট (এসভি ৩৮০৩) দিয়ে এ বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়। এতে করে ৩৯৮ জন হজযাত্রী ঢাকা ত্যাগ করেন পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে।
হজ যাত্রীদের জন্য ফ্লাইট চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। এ বছর ৮৭ হাজার ১০০ হজযাত্রী বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন। এবারও ‘রোড টু মক্কা’ কর্মসূচির আওতায় ঢাকাতেই দুই দেশের ইমিগ্রেশন হবে যাত্রীদের। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) প্রথম দিনে মোট ১০টি ফ্লাইটে ৪ হাজার ১৮০ জন হজযাত্রী সৌদি যাবেন। এর মধ্যে আটটি ফ্লাইট সৌদি আরবের জেদ্দায় কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং দুটি ফ্লাইট মদিনায় প্রিন্স মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, রাজধানীর আশকোনার হজ ক্যাম্পেই ঢাকা থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাওয়া যাত্রীদের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হবে। সৌদি আরব থেকে আসা ইমিগ্রেশনের ৭৫ সদস্যদের একটি দল শাহজালাল বিমানবন্দরে বসে সে দেশের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করবে। এতে হজযাত্রীদের ভোগান্তি কমবে। আর ফেরার সময় হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন সৌদি আরবেই করতে হবে। আর সিলেট ও চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট দিয়ে গমনকারী যাত্রীদের সৌদি আরবের আগমনী ইমিগ্রেশন সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে হজ ফ্লাইট-২০২৫ উদ্বোধন করেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। এ সময় তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উপদেষ্টা হজযাত্রীদের সৌদি আরবের আইনকানুন মেনে চলা এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানান। খালিদ হোসেন বলেন, এ দেশের হজযাত্রীরা যাতে যৌক্তিক খরচে হজ পালন করতে পারেন সে বিষয়ে আমরা তৎপর রয়েছি।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ২০০ জন যাচ্ছেন সরকারি ব্যবস্থাপনায়, আর বাকি ৮১ হাজার ৯০০ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। হজযাত্রী পরিবহনে তিনটি এয়ারলাইন্স ২৩২টি প্রাক-হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমান পরিচালনা করবে ১১৮টি ফ্লাইট, সাউদিয়া ৮০টি এবং ফ্লাইনাস ৩৪টি। বাংলাদেশ বিমানে যাবেন ৪৪ হাজার ৩০৭ জন, সাউদিয়ায় ৩২ হাজার ৭৪০ জন এবং ফ্লাইনাসে ১৩ হাজার ৬৫ জন। প্রাক-হজ ফ্লাইট শেষ হবে ৩১ মে, আর হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ১০ জুন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে হজ।
