২৪ হাজার রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে দায়ের করা প্রায় ২৪ হাজার ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব মামলার বেশির ভাগই বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা হয়েছিল। এর মধ্যে মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মামলা প্রত্যাহার করা হলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা ‘হয়রানিমূলক’ মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের মধ্যে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর দুটি কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা কমিটি এবং আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়।

পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আবেদন চাওয়া হয়। ভুক্তভোগী দলগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি বিভিন্ন সময়ে ৩৯টি সভার মাধ্যমে এসব আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। মন্ত্রণালয় বলেছে, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যের জেলা কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন পুলিশ সুপার (মহানগর এলাকার জন্য পুলিশের একজন ডেপুটি কমিশনার) ও পাবলিক প্রসিকিউটর (মহানগর এলাকার মামলাসমূহের জন্য মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর)।

আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কমিটি হয় ছয় সদস্যের। আইন উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিটিতে আছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, অতিরিক্ত সচিব (আইন ও শৃঙ্খলা), যুগ্মসচিব (আইন) এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পর্যায়ের নিচে নয়)। কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে আছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের আইন-১ শাখার উপসচিব বা সিনিয়র সহকারী সচিব বা সহকারী সচিব।