নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ খাতে বড় ধরনের কর সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সূত্রে মঙ্গলবার (২ জুন) এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।
কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৭৬-এর উপধারা (১) অনুযায়ী সরকার এই কর অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রজ্ঞাপনটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, এই সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হবে। তাদের আয়কর আইন, ২০২৩-এর সব বিধান অনুসরণ করতে হবে এবং নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। এছাড়া প্রতিটি প্রকল্পের জন্য নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়াও উৎপাদিত বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সম্পাদিত পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) অনুযায়ী সরবরাহ করতে হবে। কোনো অতিরিক্ত বিদ্যুৎ থাকলে তা নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে হবে।
এছাড়া এ খাতে উৎসে কর কর্তনের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে কর কেটে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এদিকে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বিশেষ কর রেয়াত সুবিধা ঘোষণা করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে, তাদের মোট ব্যবহৃত সৌরবিদ্যুতের বিপরীতে পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ মোট প্রদেয় আয়করের বিপরীতে কর রেয়াত হিসেবে পাওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় বাধা কর ও শুল্ক হার। বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিতে মোট শুল্কভার (টিটিআই) ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে; যেমন ডিসি কেবল, প্যানেল স্ট্রাকচার বা ব্যাটারির ক্ষেত্রে। অর্থাৎ একটি সোলার প্রকল্পের মূল প্রযুক্তি খরচের পাশাপাশি কর কাঠামোই প্রকল্প ব্যয়ের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সোলার প্যানেল আমদানিতে মোট শুল্কভার প্রায় ২৭ শতাংশ, ইনভারটারে প্রায় ২৯ শতাংশ আর পিভি-ডিজি কন্ট্রোলারে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত করভার রয়েছে। শুধু কেবলের ক্ষেত্রেই শুল্কভার ৫৮ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উপকরণের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। একটি সোলার প্রকল্পের মূল প্রযুক্তি খরচের পাশাপাশি কর কাঠামোই প্রকল্প ব্যয়ের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই কর সুবিধা বেসরকারি খাতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ বাড়াবে এবং দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
