প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে দেশে ১ লাখ ৩০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই হবেন নারী। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, মানুষকে সুস্থ রাখলে রোগীর চাপ কমবে এবং তখন সবাই যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাবে। এ লক্ষ্যেই নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন করবেন। এ সময় তিনি সিলেটে নতুন ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালুর উদ্যোগের কথাও জানান এবং ভবিষ্যতে এটিকে ১,২০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও সরকারের মেয়াদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আড়াই মাস বয়সি একটি শিশু হাঁটতে পারে না, হাঁটার জন্য সময় দিতে হবে। আমাদের সময় দেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব। ইতোমধ্যে ফ্যামেলিকার্ডসহ অনেক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, শুধু সিলেট নয়, সারাদেশের উন্নয়ন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। সিলেট-ঢাকা রেললাইন ডাবল করার চিন্তা চলছে। সড়কপথের কাজ যাতে দ্রুত শেষ হয় তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সুরমা নদীর দুই তীরে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এর আগে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পরে সুরমা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে নদীর বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। বক্তব্যে তিনি কৃষি, পানির ব্যবহার ও শিল্পায়ন প্রসঙ্গে বলেন, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি সংরক্ষণ ও কৃষি সহায়তার লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের সব বন্ধ কলকারখানা চালু করা হচ্ছে। সিলেট অঞ্চলে বিদেশমুখিতা কমাতে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নগর ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সিসিক কর্মকর্তা সুচন্দা রায়ের পরিচালনায় বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জিকে গৌছ। সিটি করপোরেশনের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ে তুলে ধরেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহামান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন আসনের এমপি, রাজনৈতিক দলের নেতারাসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
সুধী সমাবেশে শেষে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সদর উপজেলার বাসিয়া নদী পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এ ছাড়া বিকেল ৩টায় সিলেট স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর উদ্বোধন এবকং বিকেল ৫টায় শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ১০টার দিকে ইউএসবাংলার একটি ফ্লাইটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বৃষ্টির মধ্যে তিনি ওসমানী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রওনা দেন হজরত শাহজালাল (র.) মাজারে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মাজার জিয়ারত ও মোনাজাত করেন।
