বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদীর মিলিত মোহনায় চট্টগ্রাম বন্দরের নেভিগেশন চ্যানেলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি ছোট আকৃতির দেশীয় লাইটারেজ জাহাজ ডুবে গেছে। বন্দর চ্যানেলের জাহাজ আসা-যাওয়ার কাছাকাছি জায়গায় লাইটারেজ জাহাজটি ডুবলেও এতে আপাতত জাহাজ চলাচলে সমস্যা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
১৭ অক্টোবর (শুক্রবার) রাতে ‘এমভি জায়ান’ নামে লাইটারেজ জাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরদিন শনিবার জাহাজটিকে উপকূলে টেনে নিয়ে আসার পথে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি স্থানে ডুবে যায়। এই জাহাজের মালিক সংস্থা জায়ান শিপিং লাইনসের অপারেশন কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার রাতে লাইটার জাহাজের স্টিয়ারিং ফেইল করে। ইঞ্জিনেও ত্রুটি দেখা দেয়।
এ অবস্থায় জাহাজটিকে স্থির রাখা হয়। শনিবার সকালে জাহাজটি তীরের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছিল। তখন সেটি অর্ধেকেরও বেশি ডুবে গেছে। দুর্ঘটনার সময় জাহাজে থাকা ১৩ জন নাবিক নিরাপদে তীরের দিকে গেছেন বলে শিপিং সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা জানান, লাইটারেজ জাহাজটি পতেঙ্গা উপকূলের দিকে নেভাল একাডেমির কাছাকাছি আসার পর চরে আটকে জাহাজের তলা ফেটে যায়। এতে জাহাজের নিচ দিয়ে তিনটি হ্যাচে পানি প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে জাহাজের প্রায় ৯০ শতাংশ ডুবে যায়। জোয়ারের সময় শুধুমাত্র জাহাজের একেবারে ওপরের কিছু অংশ দৃশ্যমান হয়।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, বন্দরের বহির্নোঙ্গর থেকে ১২০০ মেট্রিক টন সিরামিক শিল্পের কাঁচামাল (বল ক্লে) খালাস করে জাহাজটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। ডুবে যাওয়া জাহাজে বাহিত সব পণ্য ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে জাহাজটি ডুবে থাকার কারণে চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল দিয়ে অন্যান্য জাহাজ আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে সচিব জানান। জাহাজ চলাচল কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
