হেলিকপ্টার নিবন্ধন-ফিটনেস নবায়নে অগ্রিম কর দিতে হবে ১০ লাখ টাকা

ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার বা আকাশযান নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। তবে সরকারসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই আয়কর দিতে হবে না।

অর্থবিলে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ১২ নং আইনে নতুন ১৩৮ক ধারা সন্নিবেশ করা হয়েছে। এই ধারা সন্নিবেশ বা সংযোজনের মাধ্যমে বেসামরিক আকাশযান বিশেষ করে হেলিকপ্টার বা চপার হতে অগ্রিম আয়কর আদায় করার বিধান করা হয়েছে। হেলিকপ্টার বা চপার নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর এ-চালানের মাধ্যমে জমা করা না হলে এই আকাশযান নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়ন করা যাবে না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নে অগ্রিম আয়কর দিতে হবে না। যেমন-সরকারের প্রয়োজনে কোন হেলিকপ্টার কেনা হলে তা নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নে অগ্রিম আয়কর দিতে হবে না। এছাড়া কোনো বৈদেশিক কূটনীতিক, বাংলাদেশে কোনো কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ ও তার অঙ্গ সংগঠনের দপ্তরসমূহ; বাংলাদেশে কোনো বিদেশি উন্নয়ন অংশীজন ও তার দপ্তরসমূহ; রিটার্ন দাখিল হতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত করদাতা; অগ্রিম কর হতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোন প্রতিষ্ঠান।

অপরদিকে, দেশে হেলিকপ্টার চার্টার ও ভাড়া সেবার ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বহাল রয়েছে। ফলে ব্যবসায়িক ভ্রমণ, পর্যটন, চিকিৎসা পরিবহন, ভিআইপি যাতায়াত এবং বিশেষ অনুষ্ঠানে হেলিকপ্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অতিরিক্ত ভ্যাট পরিশোধ করতে হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, হেলিকপ্টার সেবা মূলত উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, পর্যটন খাত এবং জরুরি চিকিৎসা পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। ভ্যাটের কারণে সেবার মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের চার্টার ফ্লাইটের ক্ষেত্রে।

খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবার বাজার ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। করপোরেট ভ্রমণ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, পর্যটন, বিশেষ অনুষ্ঠান ও জরুরি পরিবহনে হেলিকপ্টারের ব্যবহার বাড়ায় অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের বহর ও সেবা বাড়াচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কপথের যানজট, সময় সাশ্রয় এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চাহিদা বৃদ্ধির ফলে হেলিকপ্টার সেবা এখন আর শুধু ভিআইপিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অপারেটর করপোরেট চার্টার, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, পর্যটন ফ্লাইট এবং আন্তঃজেলা যাতায়াতের জন্য হেলিকপ্টার সেবা দিচ্ছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার, সুন্দরবন ও পার্বত্য অঞ্চলে হেলিট্যুরিজমেরও প্রসার ঘটছে।