চলতি বছরে হাম রোগে অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই প্রাণ গেছে ৩২ জনের। রাজধানীর বাইরে রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬ জন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ৫ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ জন এবং রাজশাহী ও পাবনায় ১ জন করে শিশু মারা গেছে। তবে সব জেলা ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য যুক্ত করলে মৃতের সংখ্যা ৪৬ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলতি বছরে মহাখালীর ১০০ শয্যার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে হাম রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে, যেখানে গত বছর পুরো বছরে ভর্তি ছিল মাত্র ৬৯ জন। এর মধ্যে শুধু চলতি মাসের প্রথম ২৯ দিনেই ভর্তি হয়েছে ৪৪৮ জন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, সেখানে আলাদা আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ জন এবং নোয়াখালীতে গত ১৫ দিনে ৩০০-এর বেশি শিশু হাম আক্রান্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা টিকা গ্রহণ না করাকে প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. লুৎফুন্নেসা বলেছেন, প্রথম ডোজ টিকা নেওয়া ভালো হলেও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা দেখা যায়। কিছু ছোট কমিউনিটি বা পরিবার যেখানে টিকা নেওয়া হয়নি, তারা রোগের উৎস হয়ে থাকে।
ইপিআই পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, প্রতি চার বছর অন্তর বিশেষ হাম টিকা ক্যাম্পেইন হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে এই ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৪ সালে দেশের পরিস্থিতির কারণে এটি সম্ভব হয়নি। এছাড়া গত বছর স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটের কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম তিনবার ব্যাহত হয়েছে। ভিটামিন-এ ও কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানোও বন্ধ থাকায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় মজুদ প্রায় শেষ। মাঠ পর্যায়ে মাত্র এক মাসের টিকা আছে। তবে বিশেষ ক্যাম্পেইনের জন্য নতুন টিকা ইতোমধ্যেই দেশে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে এবং ঈদুল আজহার আগে বা পরে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে পারে।
হাম রোগ দ্রুত ছড়ায় এবং শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কের সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে। হামের নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, তাই মূলত জটিলতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা করা হয়। শিশুর চোখের ক্ষতি রোধে ভিটামিন-এ এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।
